ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক প্রদানসহ ১০ দফা দাবিতে গতকাল দিবাগত রাত ১২টা থেকে সারা দেশে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন নৌযান শ্রমিকরা। এর আগে আন্দোলন সফল করতে সকালে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ।
গতকাল বেলা ১১টায় বিভাগীয় নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে বরিশাল নদীবন্দর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অশ্বিনী কুমার
হলের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশ শেষে পুনরায় মিছিল করে নৌবন্দরে গিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন শ্রমিকরা।
সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক একে আজাদ, শ্রমিক জোটের সমন্বয়কারী মোজাম্মেল সিকদার ও হারুনুর রশিদ সিকদারসহ অন্যরা।
এ সময় নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ১০ দফা দাবি আদায় না হওয়ায় রাত ১২টা থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করবেন সারা দেশের নৌযান শ্রমিকরা। বরিশাল বিভাগের শ্রমিকরা এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
সমাবেশে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, সরকার ও নৌযান মালিকরা ২০১৬ সালে সর্বশেষ এ খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ করেছিলেন। এরপর কয়েক দফা দ্রব্যমূল্য ও ভাড়া বেড়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের উন্নতি হয়নি। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানের শ্রমিকরা। সরকার ও মালিকপক্ষ এতে কর্ণপাত না করায় এখন বড় আন্দোলনের দিকে যাচ্ছেন তারা।
এ সময় বক্তারা তাদের ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হলো নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক প্রদানসহ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, খাদ্যভাতা ও সমুদ্রভাতার মতো সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা, চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী অপরিণামদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা, বালিবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস প্রদানসহ ভারতীয় সীমানায় সব ধরনের হয়রানি বন্ধ, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করে সব লাইটার জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা, চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সব ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।









