বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের নতুন সরকারের কাছে একটাই আশা, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। সোমবার (১০ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল এ সেমিনার আয়োজন করে। ‘আধুনিক কৃষি, অভিন্ন নদীর পানি আগ্রাসন এবং জলবায়ুর ভারসাম্যহীনতা রোধে শহীদ জিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহাদত হোসেন বিপ্লব।  

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। নিঃসন্দেহে তারা অনেক প্রভাবশালী। আমরা ভারতের নতুন সরকারের কাছে একটাই আশা করব, তাদের দেশে যেভাবে জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, এখনো তাদের নির্বাচন কমিশন যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, বিচার বিভাগ যেভাবে কাজ করতে পারে, আমরাও দেশের গণতন্ত্রকে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

তিনি বলেন, গতকাল একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার ইউনিভার্সিটির পুরনো এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা। নাম বলবো না তার। আপনারা হয়তো চিনে ফেলবেন। সে এখন রাজনীতি থেকে দূরে আছে। সে ছাত্রলীগের নেতা ছিল। পরবর্তীকালে সে আওয়ামী লীগ করেছে, এমপিও হয়েছে। কিন্তু এখন প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে সে রাজনীতি থেকে দূরে সরে আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি রাজনীতি করছ না কেন? সে বলে, কোন রাজনীতি করব? আমি বললাম, আওয়ামী লীগ করবা। সে বলল, আওয়ামী লীগ কি আর আওয়ামী লীগ আছে? এটাতো এখন আজিজ আর বেনজীরের আওয়ামী লীগ। এই যে দেখুন, একজন আওয়ামী লীগ নেতার উপলব্ধি, এটাই বাস্তবতা। আজ আওয়ামী লীগ সেই আওয়ামী লীগ নেই।

বাজেট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাজেট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এদের সম্পূর্ণ বাজেটটাই হচ্ছে লুটপাটের। এ সরকারের ক্ষুধার শেষ নেই। সব কিছু খেয়ে ফেলছে। সরকারের লোকজন যার যা খুশি তাই করছে। একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে দেশে। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশের ৫৩ বছরের সমস্ত অর্জন ধ্বংস করে ফেলেছে। কোথাও কোনো বিচার নাই। ব্যবসা করতে গেলে সরকারের লোকজনকে চাঁদা দিতে হয়। এরা পরিকল্পিতভাবে দেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এমন উন্নয়ন করেছে সরকার, যে জনগণ এখন ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে।