বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ভোজ্যতেল একটি সংবেদনশীল পণ্য হওয়ায় এ খাত নিয়ে নিয়মিত ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। সরবরাহ ও আমদানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকে দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আজ দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষেরা বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শঙ্কার মধ্যে আছে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে, এর মধ্যে যেন কোনো পণ্যের দাম না বাড়ে। সেটিকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।
বৈঠকে দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক এবং বাজারে সংকট এড়াতে সরকার দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় রেখে সরকার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে, যাতে সরবরাহ চেইন অব্যাহত রাখা যায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ভোক্তার স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল সময়। ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতে যারা কাজ করেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ধরনের পণ্য আমদানির জন্য বড় আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন। কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাজার থেকে সরে গেলে সেটি দেশের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ‘কমফোর্টেবল’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত থাকে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে।
এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার একটি টিম হিসেবে কাজ করছে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি যাতে বাজার স্থিতিশীল রাখা যায়।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইনের চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।










