ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় সড়ক ও রেলপথের মতোই চাপ থাকে এ ঘাটের ওপর। ফলে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রতি ঈদেই উপচে পড়া ভিড় ঠেলে বাড়ি যেতে হতো। এবারের ঈদে সদরঘাটের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরসংলগ্ন বসিলা ও পূর্বাচলসংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট সাময়িকভাবে চালু করেছে সরকার। এতে ঈদে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে রাস্তার জ্যাম ঠেলে সদরঘাট যেতে হবে না সবার। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, সাভার, গাবতলী, টঙ্গীসহ ঢাকার উত্তর ও পশ্চিমাংশের নৌপথের যাত্রীরা বসিলা থেকে এবং ঢাকার পূর্বাংশে বসবাসকারী যাত্রীরা শিমুলিয়া ঘাট থেকেই লঞ্চে উঠতে পারবে।
গতকাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন সেতুসংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে বরিশাল ও চাঁদপুরগামী যাত্রীদের যাওয়াতের জন্য বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সকালে নৌ-পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান ফিতা কেটে এ সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিনসহ অনেকে। পরে অতিথিরা লঞ্চঘাট ঘুরে দেখেন।
প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিমুলিয়া ঘাট থেকে বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে, যা ঈদ পর্যন্ত চলবে। এ কার্যক্রম আপাতত পরীক্ষামূলক হলেও ঘাটটির অবকাঠামোগত প্রস্তুতি স্থায়ীভাবেই নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে স্থায়ীভাবে চালু করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।’
এদিন সকালে বসিলা ঘাট থেকেও লঞ্চ চলাচল শুরু হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা যায়, ঈদযাত্রা উপলক্ষে গতকাল থেকে ঈদের পর আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত সাময়িকভাবে এ দুই ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাবে। বসিলা ঘাট থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন জেলার জন্য দেয়া হয় ছয়টি লঞ্চ। সকালের তিনটি যাবে হাকিমুদ্দিন, শরীয়তপুরের ঈদগাহ ফেরিঘাট ও চাঁদপুরে। দুপুরে দুটি লঞ্চ ছাড়বে ভোলার ইলিশা ও পটুয়াখালীর গলাচিপার উদ্দেশে। বিকালে আরেকটি লঞ্চ ইলিশার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
সরজমিনে দেখা যায়, গতকাল সকাল থেকে বসিলা ও শিমুলিয়া ঘাট থেকে নির্দিষ্ট সময়ে লঞ্চ ছাড়তে শুরু করেছে। তবে শুরুর দিনে এ দুই ঘাটে যাত্রীর চেয়ে বেশি দর্শনার্থীর দেখা মিলে। নতুন লঞ্চঘাট হওয়ায় আশপাশের এলাকাগুলো থেকে অনেকেই ঘুরতে এসেছেন। তবে প্রথম দিনে দুটি ঘাটের কোনোটিতেই আশানুরূপ যাত্রী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নতুন ঘাট দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা। সরকারের এ উদ্যোগ দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা নগরবাসীর ঈদযাত্রায় কষ্ট লাঘব করবে বলে মনে করছেন তারা।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, বসিলা ঘাট থেকে সকাল ৭টায় এমভি টিপু লঞ্চে ২০০ যাত্রী নিয়ে হাকিমুদ্দিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে এর পরদিনের বিভিন্ন সময়ে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে তেমন যাত্রী পাওয়া যায়নি। মাত্র আট যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে সকাল সাড়ে ৮টার এমডি ইমাম হাসান-৫ লঞ্চ। বেলা ১১টায় ছাড়া এমডি ঈগল-৪ লঞ্চ পেয়েছে ৩০ যাত্রী, দুপুর ১২টার লঞ্চ এমভি টিপু-৬ পেয়েছে সাত যাত্রী এবং ২০ জনের মতো যাত্রী নিয়েই ছেড়ে গেছে এমভি শরীয়তপুর-৩। এছাড়া শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকেও চাঁদপুর ও বরিশালের দুটি লঞ্চ যাত্রী পেয়েছে যথাক্রমে ৫০ ও ১৫০ জন করে।
যাত্রী কম হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের নদী পথে অনেক যাত্রী কমে গেছে। রাস্তা দিয়েই অল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারেন বিধায় অনেকে এখন নদী পথ এড়িয়ে চলেন। তবে নদীপথে অতিরিক্ত সময় ব্যয়কে বসিলা থেকে যাত্রী কম হওয়ার কারণ মনে করছেন এ কর্মকর্তা।
বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ নূর হোসেন বণিক বার্তাকে জানান, শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে গতকাল সকাল ৭টায় চাঁদপুরের উদ্দেশে ৫০ জনের মতো যাত্রী নিয়ে একটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। অন্যটি সকাল ৯টায় ছেড়েছে বরিশালের উদ্দেশে, ১৫০ জনের মতো যাত্রী পেয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় অনেকে না জানার কারণে যাত্রী কম হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘অনেকে এখনো জানে না। যাত্রী আরো বাড়বে বলে আশা তার। ট্যুরিস্ট অঞ্চল হিসেবে এখানে লঞ্চঘাট হওয়াতে এ স্থানটিও সদরঘাটের মতো জমজমাট হবে।’
সাময়িকভাবে চালু হওয়া এ ঘাট দুটি স্থায়ী করার দাবি যাত্রীদের। তাদের মতে, ভালোভাবে প্রচার করা হলে এ দুই ঘাটের যাত্রী অনেক বাড়বে।
ভোলা ইলিশার যাত্রী কবির আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবসময়ই লঞ্চে যাতায়াত করি। আগে গাবতলী থেকে অনেক কষ্ট করে সদরঘাট যেতে হতো। এখন নতুন সরকার এসে আমাদের কষ্ট অনেক কমিয়ে দিয়েছে। বসিলাতে এসেই লঞ্চ পেয়ে গেছি। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। সরকারের কাছে চাইব যেন এটি সবসময় চালু রাখে।’
বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মো. আলমগীর কবির জানান, প্রথম দিনে এ ঘাটে যাত্রী কিছুটা কম এসেছে। প্রথম পাঁচটি লঞ্চে ২০০-এর অধিক যাত্রী গেছেন। বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বসিলা থেকেই লঞ্চ পেয়ে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় থাকা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সুবিধা হয়েছে। প্রথম দিনে যাত্রী বেশি না হওয়াটা স্বাভাবিক। এখনো অনেকে জানে না। প্রচারণা আরেকটু বাড়লে যাত্রী বাড়বে।’










