জয়পুরহাটে আব্দুল আলিম নামে এক কৃষক ১১ বছর আগে প্রথমবার স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। তার সাফল্য দেখে ছয় বছর আগে দেড় বিঘা জমিতে শুরু হয় ফলটির বাণিজ্যিক আবাদ। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে স্ট্রবেরি চাষ। গত বছর জেলায় চাষ করেছিলেন ৬০-৭০ কৃষক। এ বছর দুই শতাধিক কৃষক স্ট্রবেরি চাষ করেছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নেই ১৫০ জন স্ট্রবেরি চাষ করেছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় এবার প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে। যার পুরো কৃতিত্বই কৃষকের। কারণ কৃষক নিজ উদ্যোগেই এ চাষটি করেছেন।
চাষীরা জানান, তারা কখনো চিন্তাই করেনি জয়পুরহাটের মাটিতে বিদেশী ফল স্ট্রবেরি চাষ হতে পারে। বর্তমানে এ এলাকায় অনেকেই এ ফল চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। অন্য ফসলের তুলনায় লাভ হয় প্রায় চার গুণ। স্থানীয়ভাবে খুচরা পর্যায়ে কিছু ফল বিক্রি হলেও ঢাকার পাইকাররা ট্রাকে করে স্ট্রবেরি নিয়ে যাচ্ছেন। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা ভালো না হওয়ায় কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
কালীবাড়ী গ্রামের আমিনুর বলেন, ‘১১ বছর আগে কৃষক আব্দুল আলিম এ এলাকায় প্রথম স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। তার সাফল্য দেখে ছয় বছর আগে দেড় বিঘা জমিতে আমিও বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করেছিলাম। অল্প খরচে অন্য ফসলের তুলনায় বেশি লাভজনক হওয়ায় পরের বছর থেকে তিন বিঘা জমিতে চাষ করছি। এখন অন্য চাষীরা আমার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করেন। অনেকে পরামর্শও নেন। দিন দিন এ অঞ্চলে স্ট্রবেরির চাষ বাড়ছে। গত বছর স্ট্রবেরি চাষ করেছিলেন মাত্র ৬০-৭০ কৃষক। এ বছর দুই শতাধিক কৃষক চাষ করেছেন।’
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাফসিয়া জাহান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মালচিং পদ্ধতি, কেঁচো সার, ছত্রাকনাশক পাউডার এবং হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করে নিরাপদ স্ট্রবেরি চাষে কৃষককে সচেতন করা হয়েছে। এছাড়া স্ট্রবেরি চাষীদের নিয়ে সমাবেশ ও উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’










