পঞ্চগড়ে চা কারখানা মালিকরা চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই সিন্ডিকেট করে কাঁচা চা পাতা ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করছেন না। এতে পঞ্চগড়ের প্রায় আট হাজার ক্ষুদ্র চা চাষী ও বাগানমালিক পড়েছেন বিপাকে। এমন অভিযোগ এনে কাঁচা চা পাতার ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা ক্ষুদ্র চা চাষী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি।

গতকাল দুপুরে পঞ্চগড়-টুনিহাট সড়কের পঞ্চগড়-টুনিহাট সড়কে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ক্ষুদ্র চা চাষী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির শতাধিক চা চাষি অংশ নেন। পরে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা ক্ষুদ্র চা চাষী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও অমরখানা ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান নুরু, চা চাষী অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সায়েদ আলী, চা চাষী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মণ্ডল, সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা জানান, চলতি মৌসুমের শুরু থেকে কাঁচা চা পাতার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত চাষীরা। চা কারখানামালিকরা সিন্ডিকেট করে কম দামে চা পাতা কিনছেন। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ১৮ টাকা নির্ধারণ করে দেন। এর পরও চা কারখানামালিকরা প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা মাত্র ১৪ টাকা দরে কিনছেন এবং মূল ওজন থেকে শতকরা ১৫ থেকে ৩০ ভাগ কর্তন করছেন। ফলে চা চাষীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

আন্দোলনকারীদের নেতা ও অমরখানা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন চা চাষী ও বাগানমালিকদের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু কারখানামালিকরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আমাদের কথায় কর্ণপাত করছেন না, উল্টো আমাদের ওপর নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে পঞ্চগড়ের চা শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক আমাদের অভিভাবক। তার নির্দেশও কারখানামালিকরা মানছেন না। আমরা উপায় না পেয়ে রাজপথে নেমেছি। দাবি মানা না হলে ১৯ জুলাইয়ের পর কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অনতিবিলম্বে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান জেলা ক্ষুদ্র চা চাষী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতারা।