দুই বছর ধরেই তারল্য সংকটে ভুগছে দেশের ব্যাংকিং খাত। গত এক বছরে এ সংকট তীব্র হয়েছে। অনেক ব্যাংকের কাছেই বিনিয়োগ করার মতো টাকা নেই। এ অবস্থায় বড় ঋণ দেয়ার চেয়ে এসএমই ও রিটেইল খাতে বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আবার ব্যাংকগুলো বড় ঋণ দেয়ার চেয়ে আদায়ে বেশি মনোযোগী হওয়ায় চলতি মূলধন সংকটে পড়তে হচ্ছে দেশের সিংহভাগ বড় করপোরেটকে। চলতি মূলধনের অভাবে দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বেশির ভাগ শিল্প গ্রুপ চলতি মূলধনের নামে এক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অন্য ব্যাংকের সুদ পরিশোধ করেছে। ঋণের এ অর্থেই জমি ক্রয়, কারখানা স্থাপন থেকে শুরু করে অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বিনিয়োগও করেছে অনেক শিল্প গ্রুপ। এভাবে কোনো কোনো শিল্প গ্রুপ ৩০-৪০টি ব্যাংক থেকে একই ঋণ নিয়েছে। ব্যাংক আর আগের মতো টাকা না দেয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এ গ্রুপগুলোকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানও বলছে, আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিল্পে মেয়াদি ঋণ ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে। যদিও একই সময়ে শিল্পে মেয়াদি ঋণ আদায় বেড়েছে ১৩ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ শেষে শিল্পে মেয়াদি ঋণের স্থিতি ছিল ২ লাখ ৩ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।
শিল্পে মেয়াদি ঋণের পরিমাণ কমলেও একই সময়ে এসএমই ঋণ বিতরণ বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো। ২০১৮ সালের মার্চের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এসএমই ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ১০ শতাংশ। মার্চ শেষে এসএমই খাতে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। একই সময়ে ঋণ বিতরণ বেড়েছে কৃষি ও অকৃষি গ্রামীণ খাতেও। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষি খাতে ঋণ বেড়েছে ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ। অকৃষি গ্রামীণ খাতে এ প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৪ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম প্রান্তিকে বৃহৎ শিল্পে মেয়াদি ঋণ ও চলতি মূলধনের পরিমাণ আরো কমেছে। তারল্য সংকট ও অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংকগুলো এখন বড় করপোরেটগুলোকে ঋণ দিতে চাইছে না। এরই মধ্যে যেসব গ্রাহককে বেশি ঋণ দেয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো টাকা আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ব্যাংক নিজে বাঁচার স্বার্থেই ঋণ বিতরণে সতর্ক হয়েছে বলে মনে করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, করপোরেট খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গার্মেন্ট, বিদ্যুত্সহ বেশ কয়েকটি খাতে সমস্যা বেশি হচ্ছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা অনেক ব্যাংকের জন্য বিপদ ডেকে এনেছেন। বড় বড় অনেক করপোরেট মরে যাচ্ছে। এসব কারণেই ঋণ বিতরণে সতর্ক হয়েছে ব্যাংকগুলো।
বিষয়টি নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্তত ১০টি করপোরেট গ্রুপের সঙ্গে কথা হয় বণিক বার্তার। তাদের প্রত্যেকেই জানান, ব্যাংকগুলোয় ঋণ চেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকল্প বা দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অনুমোদন প্রায় শূন্যে নেমেছে। চলতি মূলধন জোগানেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো। অনেক ব্যাংক এলসি খুলতেও চাইছে না। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। বড় করপোরেট বসে গেলে খেলাপি ঋণ বাড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে বেকারত্ব।
একটি শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, সম্প্রতি একটি ব্যাংকের কাছে চলতি মূলধন হিসেবে ৫০ কোটি টাকা চেয়েছিলাম। বিপরীতে ব্যাংক ৫ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। নগদ টাকার অভাবে কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শিল্প গ্রুপটির









