সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে আজ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিউর বিভাগ এবং বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত ‘ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনাল হার্ট ফেইলিউর কনফারেন্স ২০২৬’ এর সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মো. শফিউদ্দিন।
স্বাস্থ্যসেবায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। হৃদরোগসহ বিভিন্ন নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ এবং কমিউনিকেবল ডিজিজের প্রতিকার বা প্রতিরোধের জন্য সরকারের যে প্রতিষ্ঠিত কাঠামো রয়েছে সেই কাঠামোকে আরো কার্যকর, সমন্বিত এবং জনমুখী করতে হবে যাতে করে চিকিৎসাসেবা দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌছে যায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা হৃদরোগীর সংখ্যার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম।
মন্ত্রী উপস্থিত চিকিৎসকদের ‘কার্ডিওলজির টেকনিক্যাল এক্সপার্ট’ উল্লেখ করে বলেন, আপনারাই নির্ধারণ করবেন কীভাবে হৃদরোগীদের সেবা দেবেন। দেশের নীতি-নির্ধারকদের আপনারাই রাস্তা দেখাবেন কীভাবে এ সেক্টরে উন্নয়ন হবে।
তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। যারা কার্ডিওলজির ট্রেইনার রয়েছেন তাদের দায়িত্ব নিতে হবে জুনিয়রদের এক্সপার্ট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এবং সরকারকে সমন্বিতভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
চিকিৎসা পেশাকে মহান পেশা উল্লেখ করে মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ পেশার মহত্ত্বই সমাজে তাদের অন্যদের থেকে আলাদা মর্যাদা দেয়। তিনি চিকিৎসকদের মানবিকতার ব্রত নিয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা প্রদানের আহ্বান জানান। দেশের চিকিৎসাখাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তিনি চিকিৎসকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
কনফারেন্সের সমাপনী পর্বের বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো বাংলাদেশ হার্ট ফেইলিউর অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি ঘোষণা করা। কমিটির সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ডা. আতাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক ডা. ডিএমএম ফারুক ওসমানী খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ডা. এস এম ই বাকেরের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. কে এম এইচ এস সিরাজুল হক এবং অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামকে কার্ডিওলজিতে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। এছাড়া হার্ট ফেইলিউরের ওপর ডা. শহিদুল হকের লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।










