দ্য লিবিয়া অবজারভারে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, বাংলাদেশী অভিবাসীদের অপহরণ ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে এক সিরীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

কাজের সন্ধানে লিবিয়া গিয়ে প্রায়ই বাংলাদেশীরা অপহরণ, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সর্বশেষ দেশটির বেনগাজি শহরে গিয়ে আটকে পড়া ১৭০ বাংলাদেশীকে গত মে মাসে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের মধ্যে অনেকেই সেখানে গিয়ে অপহরণ, নির্যাতনের শিকার হন বলে জানিয়েছেন।

এ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশীদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানব পাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন।

লিবিয়ার অবৈধ অভিবাসনবিরোধী সংস্থা বৃহস্পতিবার নিজেদের ফেসবুক পেজে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, পূর্ব ত্রিপোলি অভিবাসী আটক কেন্দ্রের তদন্ত ও গ্রেফতারকারী ইউনিট সম্প্রতি সদ্য দেশটিতে আসা অভিবাসীদের অপহরণ এবং তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়কারী একটি চক্রের খোঁজ পায়।

তদন্তকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে অপহৃতদের আটকে রাখা স্থান ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের চিহ্নিত করেন। পাবলিক প্রসিকিউশনের অনুমতি পাওয়ার পর কর্মকর্তারা সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৩ জন বাংলাদেশী অভিবাসীকে উদ্ধার করেন এবং ঘটনাস্থলে থাকা সিরিয়ার এক নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।

তবে ঠিক কবে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে বা উদ্ধারকৃতদের পরিচয় বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সংস্থাটি।

সংস্থাটি বলছে, প্রাথমিক তদন্তের প্রমাণ ও তথ্যের মুখোমুখি করা হলে গ্রেফতারকৃত ওই ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করেছে।

এদিকে, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ৩৪০ বাংলাদেশী নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ফ্লাই ওয়া ইন্টারন্যাশনালয়ের একটি ফ্লাইট যোগে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়।

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা হয়।

প্রত্যাবাসিত এসব বাংলাদেশীর বেশির ভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানব পাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশী নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।