দেশের সিরামিক শিল্পকে একটি কমপ্লায়েন্ট (আইন মান্যকারী) শিল্প হিসেবে গড়ে তুললে সরকার এ শিল্পের ওপর আরোপিত কর হার কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, সিরামিক খাতে কর, সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর বেশি, তা সঠিক। কিন্তু দেশে কতটি শিল্প নিয়ম মেনে চলার উদাহরণ দেখাতে পারে, সেটাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, শিল্পগুলো যদি দায়িত্বশীলভাবে কর পরিশোধ করে ও নিয়ম মেনে চলতে পারে, তাহলে সরকার এ খাতে কর হ্রাসের বিষয়ে বিবেচনা করবে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, দেশের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর তুলনায়ও বেশি। তিনি জানান, আগের সরকারের সময় অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নানা উদ্যোগের ফলে দেশের রিজার্ভ এখন প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এটি সফলতা না ব্যর্থতা তা সময়ই নির্ধারণ করবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের ব্যবসায় আর আগের মতো পরিচয় বা সংযোগ নির্ভর হবে না। দক্ষতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। তাই শিল্পগুলোকে উদ্ভাবন, দক্ষতা ও নিয়ম মানার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, সিরামিক শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ নয়, রফতানিতেও এটি সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি জানান, গত বছর প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সিরামিক পণ্য রফতানি হয়েছে, যা খাতটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকটি পরিষ্কার করে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশ সিরামিক শিল্প উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে নতুন একটি শক্ত খাত হিসেবে সিরামিকের বিকাশ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে তিনি মনে করেন।

বিসিএমইএর সভাপতি মাইনুল ইসলাম বলেন, সরকারের উচিত সিরামিকসহ অন্যান্য শিল্পের আরো উন্নয়ন করা। তিনি জানান, ইতালিতে সিরামিক বাজার প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো থেকে বাড়িয়ে ২ বিলিয়ন ইউরো করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে এবং সেখানে এ খাতে কর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সরকারও সিরামিক শিল্পে এমন উদ্যোগ বিবেচনা করবে।

অনুষ্ঠানে বিসিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ, এক্সপো আয়োজন কমিটির চেয়ারম্যান ইরফান উদ্দিনসহ দেশী-বিদেশী সিরামিক কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।