বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের নাম বেগম খালেদা জিয়া। এদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে তার অসামান্য অবদান তাকে সংগ্রামের এক মূর্ত প্রতীকে পরিণত করেছে। আপসহীন এ নেত্রীর নির্বাচনী ইতিহাসে একটি শব্দ কখনোই জায়গা পায়নি—সেটা হলো 'পরাজয়'।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী রেকর্ডের সঙ্গে কেউ পাল্লা দিতে পারেনি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে তিনি কখনো পরাজয়ের মুখ দেখেননি। বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা কিংবা খুলনা—ভোটের মাঠ বদলেছে, কিন্তু ফল বদলায়নি। পাঁচ নির্বাচনে মোট ২৩টি আসন থেকে প্রার্থী হয়ে প্রতিটিতেই জিতেছেন। ব্যালট পেপারে তার নাম মানেই যেন জয়ের নিশ্চয়তা।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক জাগরণের সঙ্গে তাল মিলিয়েই তার রাজনৈতিক উত্থান। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্বহালের পর পাঁচটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন খালেদা জিয়া। পাঁচটিতেই জয়ী হন। এর মধ্যে বগুড়া-৭ আসনে ৮৩ হাজার ৮৫৪টি ভোট পান, যা মোট ভোটের ৬৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। ঢাকা-৭ আসন থেকে ৭১ হাজার ২৬৬ ভোট পান, যা মোট ভোটের ৫১ দশমিক ৫০ শতাংশ। ঢাকা-৯ আসনে ভাট পান ৫৫ হাজার ৯৪৬টি, যা মোট ভোটের ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশ। ফেনী-১ আসনে ভোট পান ৩৬ হাজার ৩৭৫টি, যা মোট ভোটের ৩৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে ভোট পান ৬৯ হাজার ৪২২টি, যা মোট ভোটের ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ।
এরপর ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, ফেনী-১, লক্ষীপুর-২ ও চট্টগ্রাম-১ থেকে নির্বাচন করেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসন থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯টি ভোট পান, যা মোট ভোটের ৫৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। বগুড়া-৭ আসন থেকে ভোট পান ১ লাখ ৭ হাজার ৪১৬টি, যা মোট ভোটের ৭২ দশমিক ১০ শতাংশ। ফেনী-১ আসন থেকে ভোট পান ৬৫ হাজার ৮৬টি, যা মোট ভোটের ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। লক্ষীপুর-২ আসন থেকে ভোট পান ৫৯ হাজার ৫৪টি, যা মোট ভোটের ৫১ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে ভোট পান ৬৬ হাজার ৩৩৬টি, যা মোট ভোটের ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
২০০১ সালের নির্বাচনে বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, খুলনা-২, লক্ষীপুর-২ এবং ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন খালেদা জিয়া। বগুড়া-৬ আসন থেকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৫টি ভোট পান, যা মোট ভোটের ৭৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। বগুড়া-৭ আসন থেকে ভোট পান ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২টি, যা মোট ভোটের ৭৯ শতাংশ। খুলনা-২ আসন থেকে ভোট পান ৯১ হাজার ৮১৯টি, যা মোট ভোটের ৫৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। লক্ষীপুর-২ আসন থেকে ভোট পান ১ লাখ ২৩ হাজার ৫২৬টি, যা মোট ভোটের ৭২ দশমিক ২০ শতাংশ। আর ফেনী-১ আসন থেকে ভোট পান ১ লাখ ৩ হাজার ১৪৯টি, যা মোট ভোটের ৭২ দশমিক ২০ শতাংশ।
সব শেষে ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ এবং ফেনী-১ থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসন থেকে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯২টি ভোট পান, যা মোট ভোটের ৭১ দশমিক ৬০ শতাংশ। বগুড়া-৭ আসন থেকে ভোট পান ২ লাখ ৩২ হাজার ৭১৬টি, যা মোট ভোটের ৭১ দশমিক ২০ শতাংশ। আর ফেনী-১ আসন থেকে ভোট পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৪১২টি, যা মোট ভোটের ৬৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।
গণতন্ত্রের আপসহীন এই নেত্রী এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মেনেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে মারা যান তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।










