বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে। অথচ ভোমরা স্থলবন্দর সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এ সড়কের পণ্যবাহী চালকরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
অন্যদিকে এ সড়কটি সংস্কারে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও তা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চুক্তি মূল্যে কাজ করা সম্ভব নয়।
ভোমরা বন্দর সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ট্রাক চালক শাহ আলম, রুস্তম হাওলাদার ও সেকান্দার আলী জানান, সড়কের নবাতকাঠি থেকে ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে ট্রাক নিয়ে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পুরো সড়ক খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। সামনে-পিছে কোনো যানবাহনকে সাইড দেয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। সাতক্ষীরা জেলা চেম্বার সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু জানান, দীর্ঘদিন সড়কের নবাতকাঠি থেকে ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী দিলওয়ার নওশাদ রাজু জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কমপক্ষে চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক স্থলবন্দর সড়কে চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কের নবাতকাঠি থেকে ভোমরা বন্দর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। খানাখন্দে কাদাপানিতে একাকার। ফলে ট্রাকসহ পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আনিসুর রহিম জানান, এ জেলার যেসব খাত থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য হারে রাজস্ব আয় করে থাকে এর মধ্যে অন্যতম ভোমরা স্থলবন্দর। অথচ সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মো. নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। এটি সংস্কারে ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পও নেয়া হয়েছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। টেন্ডারও হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি করেও মালপত্রের দাম বেড়েছে—এমন অজুহাতে প্রকল্পের কাজ আর করেনি। ওই টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।









