দেশের সব প্রধান নদ-নদী বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী ২৪-৭২ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
আজ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারি এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও ভারি বৃষ্টি হয়েছে। আগামী চার দিন দেশের উত্তর-পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এবং সংশ্লিষ্ট ভারতীয় উজানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
এতে আগামী ২৪-৭২ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু স্থানে এসব নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা, মনু, খলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি বেড়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। সুরমা-কুশিয়ারা নদী সিলেট ও সুনামগঞ্জে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।
রংপুর বিভাগে আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি আগামী ৭২ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী তিন দিন কমে পরে আবার বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি তিনদিন স্থিতিশীল থাকার পর বাড়তে পারে, আর পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচদিন কমার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এসব নদী বিপদসীমার নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।










