বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এ মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও নির্দেশনা বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সচিব ইয়াসমীন পারভীনসহ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তারা।
সভার শুরুতেই মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সচিব ইয়াসমীন পারভীনকে অভিনন্দন এবং স্বাগত জানান। তিনি বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাজকে অধিকতর গুরুত্বসহকারে বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি জানান, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে নারী নির্যাতন এবং মাদক রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে কাজ করা। ধর্ষণসহ যেকোনো ধরনের নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে সারা দেশব্যাপী মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচি প্রণয়ন এবং পণ্য বিপণনে সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দিয়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করার জন্য জয়ীতা ফাউন্ডেশনকে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন তিনি। কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারকরণসহ ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করা, হোস্টেলের সীট সংখ্যা বাড়ানো এবং জেলা পর্যায় পর্যন্ত এর পরিসর বাড়ানোর ব্যাপারে নির্দেশনা দেন তিনি। প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রামাঞ্চলে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের দিকেও অধিকতর নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। জাতীয় মহিলা সংস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানো প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিসর বাড়ানো এবং শিশুর মানসিক বিকাশে এ একাডেমির অধিকতর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে তিনি জোর দেন । প্রতিবন্ধী শিশুদের বিকাশে কী কী কাজ করা যায় সে বিষয়ে সমন্বয় সাধন করার জন্যও নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের যত্নের বিষয়টি মাথায় রেখে ডে-কেয়ার সেন্টারের উন্নয়নে কী কী কাজ হাতে নেয়া যায় সে বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের কাজ করার নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে কার্যকর এবং বাস্তবমুখী প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে এবং মনিটরিং ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করতে হবে।
সভায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা শীর্ষক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা।










