জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘জুলাই থেকে জুন অর্থবছরটি ব্রিটিশ আমলে প্রচলিত অর্থবছর যা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশে এখনো চলমান। কিন্ত বিভিন্ন দেশই তাদের নিজেদের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থবছর পরিবর্তন করেছে। আমাদের দেশেও জুলাই থেকে জুনের বদলে বাংলা সাল বৈশাখ থেকে চৈত্র কিংবা জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে অর্থবছর পরিবর্তন করা যায়। সরকারের কাজ ছিল বৈষম্যবিহীন বাংলাদেশ নির্মাণের গতিমুখ ঠিক করা। এই সরকার অস্থায়ী সরকার, এর স্থায়ী কোনো ম্যান্ডেট নেই। সুতরাং তার পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব না।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার কমিশনগুলোর রিপোর্ট হয়েছে, কিছু সংস্কারের প্রত্যাশা রয়েছে এবং কিছু করণীয় আছে যেগুলো তারা খুব সহজেই করতে পারে। যেমন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রাথমিক এবং বহু বছরের দাবি যা বর্তমানে মোট বাজেটের ৫-৬ ভাগ যা থাকা উচিত তা বরাদ্দ থাকে ১ থেকে ২ ভাগ, যা বিশ্বের সব দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে নিচে। এ অর্থবছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ করে তারা জনগণের স্বার্থে সংস্কারের কিছু নমুনার সূচনা করতে পারে। পারে পরিমাণগত বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণগত মানও বৃদ্ধি করতে। বরাদ্দকৃত অর্থে অপ্রয়োজনীয় খরচ ও প্রকল্প, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দুর্নীতি আছে। এগুলো দূর করতে হলে পূর্ণাঙ্গ বাজেট খরচের খাতসহ জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে হবে।’
আজ শুক্রবার (২৩ মে) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় মাওলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজনে ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে কেমন বাজেট চাই?’ শীর্ষক আলোচনায় আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘একটা সংস্কার খুব সহজ ছিল যে প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে উপদেষ্টা প্রতিনিধি, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সবার শিক্ষা ও চিকিৎসা পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে বাধ্যতামূলক করা, তাহলেই পাবলিক শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের চেহারা বদলে যেত। বাজেটের আগে এ ধরনের ঘোষণা হলে বরাদ্দের গুণগত পরিবর্তন হওয়া খুবই সহজ হবে।’
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকারের আরেকটা কাজ হচ্ছে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি। জাতীয় সক্ষমতার ভিত্তিতে একটি দেশকে অগ্রসর হতে হবে। বিগত সরকার বাহাদুরি করে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা দিয়ে স্যাটেলাইট কিনল, এটি করে তো কোনো দেশ অগ্রসর হতে পারে না। তার চাইতে এর একাংশ টাকা যদি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞানে গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের গবেষণায় ব্যয় করত, তাহলে জাতীয় সক্ষমতা নিশ্চিত হতো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে দিতে হবে, করিডোর করতে হবে কিংবা স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে যা জাতীয় সক্ষমতার বিপরীতে হাজির করা হচ্ছে। বিদেশী কোম্পানি আনতেই হবে, এ বিষয়ে দৃঢ়তা না দেখিয়ে সরকার যদি দৃঢ়তা দেখাত, চট্টগ্রাম বন্দরে যেসব প্রাতিষ্ঠানিক অক্ষমতা রয়েছে তা দূর করতে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাতে তবে জাতীয় সক্ষমতা বজায় থাকবে ও সেটিই স্থিতিশীল প্রভাব ফেলবে ভবিষ্যতে।’
আলোচনা সভায় বিগত বাজেট নিয়ে পর্যালোচনা এবং আসন্ন বাজেট নিয়ে নানান প্রত্যাশা তুলে ধরেন আলোচকরা। সভায় আরো আলোচনা করেন শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা সজীব তানভীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, লেখক ও গবেষক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যাপক হারুন উর রশীদ, লেখক কৌশিক আহমেদ, লেখক ও গবেষক কল্লোল মোস্তফা এবং অ্যাক্টিভিস্ট মারজিয়া প্রভা।











