বিগত সরকারের আমলে তৈরি হওয়া রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভারতের আধিপত্যের প্রতীক। বর্তমান সরকারের উচিত এ প্রকল্প বন্ধের পথ বের করা। তাতে সাময়িক যে আর্থিক ক্ষতি হবে তা গত সরকারের জ্বালানি খাতের দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
শনিবার (২৪ মে) রাজধানীর এফডিসিতে বিগত শাসনামলে জ্বালানি খাতে লুণ্ঠনের দায় নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তিটিও জাতীয় স্বার্থবিরোধী। কুইক রেন্টাল আর চালু রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। বিগত আমলে জ্বালানি খাতের দুর্নীতিবাজদের শনাক্ত করে তাদের তালিকা প্রকাশ করা উচিত। তা না হলে তারা মুখোশ পাল্টে আবারো একই অপরাধে লিপ্ত হবে। বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতের দায়মুক্তি আইন বাতিলের নামে এর সঙ্গে নতুন শর্ত জুড়ে আমাদের প্রত্যাশা ভঙ্গ করেছে। বিগত সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণে গণশুনানির নামে যে প্রহসন করেছে বর্তমান সরকার তা থেকে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করি।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত শাসন আমলে অর্থনৈতিক বিনিময় ছাড়া কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়নি। কতিপয় রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ী এ তিন পক্ষের যোগসাজশেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সেক্টরে দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। এমনও ঘটনা আছে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চাইতে দ্বিগুণ—তিনগুণ দামে কয়লা ও ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হয়েছে। এতে জনগণকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে, কলকারখানার উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পক্ষ থেকে নিম্নের ১০ দফা সুপারিশ করা হয়। ১. বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সম্পাদিত সব চুক্তি পুনঃমূল্যায়ন করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা। কোনো চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাতিল করা। ২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জ্বালানি খাতের মাফিয়াদের বিচার করা। ৩. বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দুর্নীতি অনুসন্ধানে ফরেনসিক অডিট করা। ৪. এলএনজি আমদানির দিকে না ঝুঁকে নিজস্ব গ্যাস—কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলন করা। ৫. ধারণা করা হয় আমাদের অফশোরে অর্থাৎ বঙ্গোপসাগরে বিপুল পরিমাণে গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে। তা উত্তোলনের ব্যবস্থা করা। ৬. বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম নির্ধারণে জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ গণশুনানি নিশ্চিত করে নিরবচ্ছিন্ন মানসম্পন্ন জ্বালানি সরবরাহ করা। ৭. ব্যয়বহুল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে বেরিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি ও টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রাধিকার দেয়া। ৮. বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদন সক্ষমতা নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা। ৯.গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনে বিদেশী নির্ভরতা কমিয়ে দেশী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ১০. বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল, কয়লা, ফার্নেস অয়েল ইত্যাদি সঠিক মূল্যে আমদানি নিশ্চিত করা।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘সঠিক পরিকল্পনার অভাবই জ্বালানি খাতে লুণ্ঠনের প্রধান কারণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।










