অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় আধুনিক রিটেইল খাতে ন্যূনতম করহার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এতে মোট আয়ের প্রায় ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত শোষণ করে নেয়া হয়। এটিকে ১ শতাংশ থেকে থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন তারা।
রাজধানীর শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত আজ এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানিয়ে কর কমানোর প্রস্তাব করেন বক্তারা। এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসওএ) অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। এতে বক্তারা বলেন, সুপারমার্কেট খাতের মতো সংগঠিত মুনাফার ব্যবসায় কর-পূর্ব আয়ের প্রান্তিক সীমা ১ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এতে উক্ত করহারের ফলে এই শিল্প খাতে পুনঃবিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ ব্যাহত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি) মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। আরো ছিলেন ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুয়াল্লিম আহমেদ চৌধুরী, ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সভাপতি মো. কাওসার আলম, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, এনবিআরের সাবেক সদস্য (কর নীতি) অপূর্ব কান্তি দাস এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সঞ্চালনা করেন এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া। গোলটেবিল বৈঠক শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, এ খাত সরাসরি ১৭ হাজার ৫০০ এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রিটেইল বাজারের আকার প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। সুপারমার্কেটগুলো আধুনিক কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাদ্যের অপচয় রোধ ও বিষমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করে নিরাপদ খাদ্যের ‘গেটকিপার’ হিসেবে কাজ করছে। এটি সরাসরি এসডিজি ৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ) এবং এসডিজি ১২ (পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন) অর্জনে সহায়তা করছে। এছাড়া পেশাদার কর্মপরিবেশের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করায় সুপারমার্কেটগুলো এসডিজি ৫ (লিঙ্গ সমতা) বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। মূলত অসংগঠিত বাজারকে সুপারমার্কেটগুলো একটি আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, ২০২৫ সালে এনবিআর এ খাতের ভ্যাট কাঠামো সংস্কার করায় সুপারমার্কেটগুলোর বিক্রিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু বর্তমান টার্নওভার ট্যাক্স বা ন্যূনতম কর এ অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। করদাতাদের স্বচ্ছতার মাধ্যমে ব্যবসা করা সুপারমার্কেটগুলো সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব দিচ্ছে। কিন্তু এই বাড়তি করের বোঝা খাতের আনুষ্ঠানিকীকরণকে নিরুৎসাহিত করছে।
এসময় তারা এ খাতের জন্য টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম করহার বর্তমানের ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণের সুস্পষ্ট প্রস্তাব করেন। বক্তারা যুক্তি দেন, এ করহার টেকসই এবং এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি কার্যকর হলে ব্যবসায়ীদের হাতে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ ও নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকবে।
গোলটেবিল বৈঠকে সরকারের নীতি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।










