চুয়াডাঙ্গা জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৫ শতাংশ। এটাই ছিল গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আজ তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।

গতকাল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও মৃদু হিমেল বাতাসে ঠাণ্ডার মাত্রা কমেনি। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। কনকনে ঠাণ্ডায় দুর্ভোগে পড়ে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ। দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশিসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, শীতে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রচুর রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রতিদিন ৩০০-৪০০ শিশু আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছে।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল অনেকাংশেই কমে গিয়েছে। জেলা শহরের নতুন ও পুরনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোয় ভিড় দেখা গিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা শহরের সরদারপাড়ার এক গৃহবধূ বলেন, ঠাণ্ডার সঙ্গে শীতের পোশাকের দামও একলাফে বেড়ে গিয়েছে। দোকানিরা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। ফলে নতুন পোশাক কেনা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান জানান, চার উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল ও শীতবস্ত্র পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই দরিদ্রদের মধ্যে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।