চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কালাপানিতে প্রায় ৩০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের বসবাস। পাড়াটিতে যেতে একটি ছড়া পার হতে হয়। তবে সেখানে কালভার্ট না থাকায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে পরিবারগুলো। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সাঁকো ভেঙে দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের।

স্থানীয়রা জানায়, ২০০১ সালে পাহাড়ি ঢলে সাঁকো পার হতে গিয়ে তনা ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর থেকে একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে সাঁকো তৈরি করে দেয়ার দাবি জানালেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। চলতি বর্ষায় সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় আবারো দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

বারইয়ারহাট কলেজের শিক্ষার্থী ববিতা ত্রিপুরা ও বর্ষা ত্রিপুরা বলেন, ‘সাঁকো পার হয়ে প্রতিদিন কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। কালাপানি সড়কটি দিয়ে বর্ষায় চলাচল মুশকিল হয়ে পড়ে।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মিরসরাই শাখার সভাপতি শুভ কুমার ত্রিপুরা জয় বলেন, ‘আমাদের পাড়ায় প্রায় ২০০ মানুষের বসবাস। অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। কিন্তু শিশু শিক্ষার্থীরা বর্ষায় ভয়ে সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। আমরা একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে ধরনা দিয়েও সমাধান পাইনি।’

উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হরি ত্রিপুরা বলেন, ‘২০০১ সালে বর্ষায় সাঁকো পার হতে গিয়ে কালাপানির কলসিং ত্রিপুরার ছেলে তনা ত্রিপুরা পানিতে ডুবে মারা যায়। ওই সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান একটি কালভার্ট তৈরি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর করেননি। এখনো দুই শতাধিক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পারাপার হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে ছড়ার ওপর একটি কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দ এলে কালভার্টটি নির্মাণ করা হবে।’