সোমালীয় জলদস্যুদের হাতে ৩১ দিন জিম্মি থাকার পর বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ মুক্ত হয়েছে। জাহাজটির ২৩ জন বাংলাদেশী নাবিকসহ জাহাজটি দুবাইয়ের পথে আছে। ১৯ এপ্রিল (শুক্রবার) দুবাইয়ে পৌঁছার পর ২০ এপ্রিল ( শনিবার) দেশে ফিরবেন জাহাজটির নাবিকরা।
আজ রোববার (১৪ এপ্রিল)
দুপুরে এমভি আবদুল্লাহর মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপের আগ্রাবাদের প্রধান কার্যালয়ে
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ
সম্মেলনে জিম্মিদের কাছ থেকে জাহাজ ও নাবিকদের মুক্ত করার বিষয়ে কেএসআরএম গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক
শাহরিয়ার জাহান রাহাত বলেন, ‘জলদস্যুরা জাহাজটি দখল করার পর নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি
আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। নাবিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ জিম্মি
বাংলাদেশী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ উদ্ধারে অভিযান চালানোর পরিকল্পনাকেও নিরুৎসাহিত করা
হয়েছে।’
শাহরিয়ার
জাহান রাহাত বলেন, ‘ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ এমভি আবদুল্লাহর পিছু নেয়ার পর সরকারকে দ্রুত
বিষয়টি অবহিত করি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে আমরা জাহাজ
উদ্ধারে আন্তর্জাতিক বলপ্রয়োগের বিষয়টি নাকচ করে দিতে সক্ষম হই।’ এজন্য প্রধানমন্ত্রী,
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান শাহরিয়ার জাহান রাহাত।
শাহরিয়ার
জাহান বলেন, ‘মালিক পক্ষ হিসেবে সরাসরি জলদস্যুদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করিনি। আন্তর্জাতিক
যেসব প্রতিষ্ঠান এসব বিষয় নিয়ে এক্সপার্ট তাদের সহায়তা নিয়েছি। এজন্য তাই দ্রুত সময়ের
মধ্যে জাহাজসহ নাবিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
জাহাজের
নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে বিভিন্ন সমালোচনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে শাহরিয়ার জাহান রাহাত
বলেন, ‘এমভি আবদুল্লাহ আন্তর্জাতিক জলসীমার নিরাপদ দূরত্বে দিয়ে যাচ্ছিল। যেখান থেকে
আমাদের জাহাজ জলদস্যুরা আক্রমণ করে সেখানে গত ৯-১০ বছরে পাইরেসির কোনো রেকর্ড নেই।
মূলত হুতি বিদ্রোহীদের দমনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা দেয়া বাহিনীগুলো কিছুটা সরে যাওয়ায়
সোমালীয় জলদস্যুরা সেই সুযোগ নিয়েছে। এখন ওই অঞ্চলেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।’
সংবাদ
সম্মেলনে কেএসআরএম গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
(সিইও) মেহেরুল করীম বলেন, ‘১৩ বছর আগে আমাদের প্রতিষ্ঠানের আরেকটি জাহাজ “এমভি জাহানমণি”
সোমালীয় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়েছিল। তখন জিম্মি উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের
অভিজ্ঞতা কম ছিল। এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি হওয়ার পর অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সঠিক
পন্থায় যোগাযোগ রক্ষা করে আলোচনা চালিয়ে গেছি। জাহাজটি জিম্মি হওয়ার পর থেকে জাহাজের
ভিসেটের মাধ্যমে জাহাজটির অবস্থানসহ সব তথ্য পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’
মেহেরুল
করীম বলেন, ‘জাহাজ পাহারায় থাকা জলদস্যুদের কমান্ডারের ইংরেজি জানা একজন সহকারী আমাদের
সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যোগাযোগের পর থেকেই আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাহাজের নাবিকরা সুস্থ
আছেন কিনা সেটি নিশ্চিত করা। জাহাজ জিম্মি হওয়ার পর থেকে উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত আমাদের
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন আইন, নিয়ম ও নির্দেশনা প্রতি মুহূর্তে প্রতিপালন
করে জিম্মি নাবিকদের উদ্ধার করা হয়েছে। এজন্য উদ্ধার প্রক্রিয়ার অনেক বিষয় প্রকাশ্যে
বলা যাচ্ছে না।’
কেএসআরএম
গ্রুপের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, নাবিকরা কেমন আছেন সে বিষয় নিশ্চিত
হতে প্রতিদিন সেটির ভিডিও নেয়া হতো। সর্বশেষ দুইদিন আগে এসআর শিপিংয়ের সঙ্গে জলদস্যুদের
সমঝোতা হয়। এরপর শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় এমভি আবদুল্লাহর পাহারায় থাকা ৬৫ জলদস্যু জাহাজটি
ছেড়ে চলে যায়। এরপর ক্যাপ্টেনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে ‘তারা মুক্ত’ ঘোষণা দিলে এমভি
আবদুল্লাহকে নিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
প্রসঙ্গত,
গত ১২ মার্চ সোমালীয় উপকূল থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগর থেকে বাংলাদেশী
মালিকানাধীন এমভি আবদুল্লাহকে ২৩ নাবিকসহ জিম্মি করে জলদস্যুরা। এর প্রায় আটদিন পর
২০ মার্চ মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জলদস্যুরা। মূলত মুক্তিপণ আদায়ের জন্যই আন্তর্জাতিক
জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলো জিম্মি করে সোমালীয় জলদস্যুরা।










