ফরিদপুরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের বিলমামুদপুরে অবস্থিত মাইশা ডেইরী ফার্মে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি ষাড় গরু রয়েছে আদর করে ষাড়টির নাম দেয়া হয়েছে সম্রাট। ফরিদপুরের ৩২ মাসে ৩৩ মন ওজন লাভ করেছে এই ষাড় গরু।  এবারের আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। সেখানেই অতিযত্নে  লালন পালন করা হচ্ছে। গরুটি লম্বায় সাড়ে ৯ ফুট এবং উচ্চতায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি।   

মাইশা ডেইরী ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, তাঁর ডেইরী ফার্মের একটি গাভীর গর্ভে জন্ম হয় এই ষাড়ের। এরপর সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এটিকে লালন পালন করে বড় করেছেন। তিনি জানান, তাজা ঘাস, খড়, গম, ভুসি ও খৈল এসব প্রাকৃতিক খাবারই খাওয়ানো হয় এটিকে। প্রতিদিন প্রায় ১৬ কেজি খাবারের জন্য খরচ হয় এক হাজার টাকার মতো। ষাড়টি বড় করতে কোন কৃত্রিম পদ্ধতি অবলম্বন করেননি। মোটাতাজাকরণের কোন ওষুধ বা খাবার দিতে হয়নি।  

এবারের কোরবানী ঈদকে সামনে রেখেই গরুটিকে প্রস্তুত করেছিলেন জানিয়ে সবুজ বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে গরুর খামারীরা খুব অসুবিধায় আছেন। অনলাইনে গরু বিক্রির কথা বলা হলেও অনেকেরই এ বিষয়ে ধারণা নেই। সরকার যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সময়ের জন্য হলেও গরু বিক্রির জন্য ব্যবস্থা করেন তারা উপকৃত হতেন।

ফরিদপুর জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে এই ৩৩ মন ওজনের সম্রাট। অনলাইনে ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এই ষাড় গরুটির ছবিসহ তথ্যাদি প্রকাশও করেছেন। গরুটিকে দেখতে অনেক উৎসুক মানুষ ওই খামারেও আসছেন। 

এছাড়া ফরিদপুরে গরুর হাট চালুর প্রসঙ্গে জেলা প্রাণী সম্পদ অধিপ্তর কর্মকর্তা নুরুল আহসান বলেন,খামারীদের সমস্যার বিষয়ে সরকার অবহিত রয়েছে, আগামী ১৪ তারিখে লকডাউনের সময়সীমা শেষ হলে হয়তো এব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।