রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অবস্থিত একটি এতিমখানার সুপার খাইরুল ইসলাম। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির প্রথম সারির কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারের পর তাদের অর্থদাতা হিসেবে খাইরুল ইসলামের নামটি উঠে এলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে একটি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে এ অনুসন্ধানে। এতে দেখা যায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান খাইরুল ইসলাম ওই এতিমখানায় সামান্য বেতনের চাকরি করলেও তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে গত দুই বছরে ২ কোটি টাকার অধিক অর্থ জমা হয়েছে। তার নিজের নামেও রয়েছে অনেক স্থাবর সম্পত্তি। খাইরুলের এ অর্থের উৎস খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে একটি বিদেশী দাতব্য সংস্থা কাতার চ্যারিটির নাম। খাইরুল ইসলাম গোদাগাড়ী এতিমখানা নামের যে প্রতিষ্ঠানের সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন সে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয় কাতার চ্যারিটির অর্থায়নেই।

বিশ্বের বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা উন্নয়নে অর্থসহায়তা দিয়ে থাকে কাতারভিত্তিক দাতব্য সংস্থা কাতার চ্যারিটি। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় অর্থসহায়তা দিয়ে আসছে সংস্থাটি। তবে বাংলাদেশে সংস্থাটির অর্থ সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক লেনদেন খুঁজে পেয়েছে এ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসা আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি। তাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার চ্যারিটির নামে ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখায় ২০১৭ সালের ২২ মার্চ একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ওই ব্যাংক হিসাবে জমা হয় ১৬১ কোটি টাকা এবং উত্তোলন করা হয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। ওই হিসাবটিতে অসংখ্য ব্যক্তির নামে ৫ লাখ টাকা ও এর বেশি অংকের ৭৮৭টি লেনদেন হয়েছে। নগদ অর্থ উত্তোলিত হওয়ায় এ অর্থ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা আইনবিরোধী অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে ব্যবহূত হয়েছে কিনা তা জানার জন্য অধিকতর তদন্ত আবশ্যক বলেও মত দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়নে কাতার চ্যারিটি থেকে অর্থ বরাদ্দ নিতে হলে আবেদন করে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। কাতার চ্যারিটির বাংলাদেশ শাখার কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে নির্দিষ্ট কমিশন গ্রহণ করে থাকেন। সেই কমিশন বুঝে নেয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই নিজেরা টাকা তুলে কমিশনের টাকা কেটে রেখে বাকি টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কমিটির সদস্যদের বুঝিয়ে দেন। এ প্রক্রিয়ায়