চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার অলিনগর রেঞ্জের অধীনে ২ হাজার ২৭৯ দশমিক ৮১ একর বনভূমি রয়েছে। তবে বিশাল এ বনভূমি পাহারায় মাত্র তিনজন প্রহরী রয়েছেন। সে হিসেবে ৭৬০ একর বনভূমি পাহারায় প্রহরী মাত্র একজন। এছাড়া একজন রেঞ্জ কর্মকর্তা, একজন সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা, একজন নৌকাচালক ও একজন অফিস সহকারী রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ বনভূমি পাহারায় প্রহরীদের নেই কোনো অস্ত্র ও যানবাহন। রেঞ্জ অফিসে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। ভালো অবকাঠামো না থাকায় এখানে দায়িত্ব পাওয়া বন কর্মকর্তারা থাকতে চান না। এছাড়া বন কর্মকর্তারা নিজেরাই ভোগেন নিরাপত্তাহীনতায়। অনেক জায়গায় বন কর্মকর্তারা যেতে পারেন না। তাই ওই সব জমি দিন দিন দখল হয়ে যাচ্ছে। বনদস্যুরা সহজে গাছ কেটে নিয়ে যেতে পারছে।
সরজমিনে অলিনগর রেঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, ফেনী নদীর পাড়ঘেঁষে টিন ও কাঠের তৈরি একটি অফিস রয়েছে কিন্তু অফিসে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। অনেক বনভূমি দখল করে লেবু বাগান করেছেন স্থানীয়রা। যানবাহন না থাকায় কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত যেতে পারেন না তারা। মাঝে মধ্যে কিছু কাঠ উদ্ধার করলেও পরিমাণে তা কম।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অলিনগর বিটের এক বন প্রহরী জানান, দুর্বল কর্মকর্তাদের এখানে পাঠানো হয়। অনেক সময় বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি হিসেবে বন কর্মকর্তাদের অলিনগর রেঞ্জে পাঠানো হয়। এখানে মোবাইলের নেটওয়ার্কও থাকে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অলিনগর রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার কাম রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আমি ছয় মাস আগে অলিনগর রেঞ্জে যোগ দিয়েছি। এখানে মাত্র তিনজন বন প্রহরী রয়েছেন। অফিসে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। তবে শিগগিরই বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হবে।’
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের (মিরসরাই) সহকারী বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘অলিনগর রেঞ্জ অফিসে বিদ্যুৎ রয়েছে। তবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থাকতে পারে।’










