ক্রিকেট ও ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও নেপালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায় দুদেশ। এ লক্ষ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। সাক্ষাতে দুদেশের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রিকেটের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সময়মতো সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি।
দুদেশের বিদ্যমান সুদৃঢ় রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। ঘনশ্যাম ভান্ডারি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে চমৎকার রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ক্রীড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
এ সময় দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দেন নেপালের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি।
তিনি বলেন, বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের জনগণের জন্য অনুপ্রেরণা প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশকে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের অনুরোধ করছি। আমাদের দল বাংলাদেশ সফরে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত। একইভাবে বাংলাদেশ দলকে নেপালে স্বাগত জানাতেও আমরা প্রস্তুত।
নেপালের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে ক্রীড়া কূটনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, আমরা ক্রীড়া কূটনীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং বিভিন্ন খেলায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে এরই মধ্যে কাজ করছি।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি দেয়ার জন্য নেপালের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন তিনি। চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে, নেপালের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন আমিনুল হক। বিশেষ করে পর্বতারোহণসহ সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশী অ্যাথলেটদের সহযোগিতা ও সুযোগ দেয়ার জন্য নেপালকে আহ্বান জানান তিনি।
দুদেশের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রিকেটের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার সম্ভাবনাকে এ বৈঠকে গুরুত্ব দেয়া হয়।










