নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নে গত মাসে সারাদেশে ৫৯টি অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযানে মোট এক কোটি টাকা জরিমানা আদায় এবং ৫০টি মামলা দায়ের হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, আগস্টে ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৫টি অভিযানের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০টি মামলা দায়ের করা হয়। ঢাকা মহানগর ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৯টি অভিযানের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য আইনে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে এসব ঘটনায় নয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আগস্টে ৫৯টি অভিযানের মাধ্যমে মোট এক কোটি টাকা জরিমানা এবং ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়।

একই সময়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ১৯৮টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করেছে এবং ১৩টি রফতানিযোগ্য পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ দিয়েছে।

এদিকে গত ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে রাজধানী এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযানে মোট সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ সাত দিনে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনিবন্ধিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নকল পণ্য উৎপাদন, পচা-বাসি খাবার বিক্রি এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআই প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার মতো অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একই সময়ে চট্টগ্রাম, সিলেট ও লক্ষ্মীপুর জেলার মোট চারটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরিতে কেওড়াজলের ব্যবহার, অনুমোদনহীন রং ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং পোড়াতেলের ব্যবহারের কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ওই চারটি প্রতিষ্ঠানে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপদতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৩৭টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং পরিচালনা করা হয়।

মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।