গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে তুসুকা গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা দুদিন ধরে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করছেন। বিজিএমইএর কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ করেন। তাদের সব দাবি পূরণ না হলে এ বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি লাগাতার চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
গতকাল সকাল ৮টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি শুরু করে কারখানার ভেতরেই বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। কারখানার বাইরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
শ্রমিকদের দাবি, বিজিএমইএ কাঠামো অনুযায়ী বেতন কাঠামোর শতভাগ গ্রেডিং করা, ঈদের ছুটিতে কোনো জেনারেল ছুটি অন্তর্ভুক্ত না করা, বার্ষিক পিকনিকের আয়োজন করা, স্বজনপ্রীতি বন্ধ করা, কারখানায় যোগদান অনুযায়ী ছুটির টাকা দেয়া, সব পাওনা চলতি মাসে পরিশোধ করা। এছাড়া শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করাসহ আরো বেশকিছু দাবি জানিয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন।
তুসুকা গ্রুপের পরিচালক তারেক হাসান বলেন, ‘শ্রমিকদের গতকাল যে দাবি ছিল, তা পুরোপুরি মেনে নিয়ে আমরা নোটিস দিয়ে দিয়েছি। আজ খোলা রাখা হয়েছিল। তবু তারা কর্মবিরতি করে বিক্ষোভ করছেন।
আন্দোলনের পেছনে বহিরাগতদের উসকানি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিচালক জানান, এদিন শ্রমিকরা কারখানার প্রধান গেটসহ বিভিন্ন জায়গায় তালা লাগিয়ে দেন।
তুসুকা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেয়া নোটিসে উল্লেখ করা হয়, কারখানা শ্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়নি। শ্রমিকদের যেসব যৌক্তিক দাবি রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।
কোনাবাড়ী থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করছে। কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকরা তাদের দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এখনো পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।









