কৃষি ব্যবস্থাপনার উৎকর্ষ আনতে কৃষকদের নিকট কৃষির মূল উপকরণ সরবরাহের লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনো কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কৃষকের নিকট মানসম্পন্ন বীজ, সুষম নন-ইউরিয়া সার এবং সেচ ব্যবস্থাপনার সুবিধাদি কার্যক্রমটি সম্পাদন করছে বিএডিসি। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। কৃষিকে টেকসই রূপ দানে বিএডিসির কার্যপরিধিতে এসেছে নানা পরিবর্তন।
এরই ধারাবাহিকতায় বিএডিসি আইন ২০১৮ অনুযায়ী সংস্থাটির গবেষণা সেলের মাধ্যমে প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত আলু, আম, পেঁয়াজ, মাল্টা, পেঁপে, আনারস, ভুট্টা, টমেটো, চেরি, সফেদা, জামসহ বিভিন্ন ফসলের মোট ৪৪টি উচ্চ ফলনশীল ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় জাত নিবন্ধিত হয়েছে। এসব জাত উচ্চ উৎপাদনশীলতা, রোগ সহনশীলতা এবং বাজারযোগ্যতার কারণে কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষকদের সুবিধার জন্য এসব জাতের বৈশিষ্ট্য, ফলনক্ষমতা এবং চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে আরো বিস্তৃত প্রচার ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিএডিসি শুধু উৎপাদন উপকরণ সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেও কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। সংস্থাটির গবেষণা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইআরআরআই) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।
এ সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নত ধান প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীল জাত এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের জন্য সমঝোতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দেশের কৃষি উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএডিসি ভূমিকা রাখছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, গবেষণা উন্নয়ন এবং কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
-বিজ্ঞপ্তি










