রাজধানীর ছয়টি স্ট্রিট ফুডে মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত এশেরিকিয়া কোলাই (ই-কোলাই), সালমোনেলা এসপিপি ও ভিব্রিও এসপিপি ব্যাকটেরিয়া। এসব ব্যাকটেরিয়া ডায়রিয়াসহ মানুষের পেটের পীড়ার জন্য দায়ী।
গতকাল সকালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) গবেষণার ফল অবহিতকরণ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড নিউট্রেশন অ্যান্ড এগ্রিকালচার রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রধান ও গবেষণা দলের প্রধান ড. মো. লতিফুল বারি এ তথ্য জানান। বিএফএসএর প্রশিক্ষণ কক্ষে এ গবেষণা ফল তুলে ধরা হয়। বিএফএসএর অর্থায়নে মো. লতিফুল বারি ও তার দল এ গবেষণা করেন।
চটপটি, ছোলামুড়ি, স্যান্ডউইচ, আখের রস, অ্যালোভেরা শরবত ও মিক্সড সালাদের ওপর এ গবেষণা চালায় গবেষক দলটি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৭টি জোন থেকে এসব স্ট্রিট ফুডের ৪৫০টি নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘বিএসটিআই থেকে প্যাকেটজাত পণ্যের লাইসেন্স নিয়ে খোলা পণ্য তৈরি করছেন অনেকে। স্ট্রিট ফুডের চাহিদা রয়েছে বলে বিক্রিও হচ্ছে। ভোক্তা সচেতনতা বেশি প্রয়োজন।’ এ সময় সাংবাদিকরা মসলার দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চাহিদা বাড়ায় মসলার দাম বেড়েছে। আমরা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে অভিযান চালিয়েছি। ঢাকার মৌলভীবাজারেও গিয়েছি।’
গবেষণা দলের প্রধান মো. লতিফুল বারি বলেন, ‘দূষিত পানি, নোংরা গামছা, অপরিষ্কার হাত, ধুলাবালিময় পরিবেশের কারণে এ ধরনের জীবাণু খাবারে মিশে যাচ্ছে। বিক্রেতাদের স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সম্পর্কে জ্ঞান ও ধারণা কম থাকায় খাবার ও জুসে জীবাণু ঢুকে যাচ্ছে।’
তিনি জানান, সড়কের বিভিন্ন খাবার খেয়ে মানুষ ই-কোলাই, সালমেনোলা ও ভিব্রিওর মতো জীবাণুতে সংক্রমিত হচ্ছে। কিন্তু অসুস্থ হচ্ছে না। কেন মানুষ অসুস্থ হচ্ছে না, তা জানা যায়নি। এ সময় তিনি স্ট্রিট ফুড নিরাপদ করতে বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ ও প্রতিদিন মনিটরিং করার ওপর জোর দেন।
গবেষণার ফলে দেখা যায়, গড়ে প্রতি প্লেট চটপটিতে ৭ কোটি ২০ লাখ ই-কোলাই, সাড়ে ৭০০ সালমোনেলা ও সাড়ে ৭০০ ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। ছোলামুড়িতে ই-কোলাই পাওয়া গেছে সাড়ে ৭ লাখ ৪০ হাজার, সালমোনেলা ২ হাজার ও ভিব্রিও ৩০ লাখ। স্যান্ডউইচে ই-কোলাই পাওয়া গেছে ২ হাজার, সালমোনেলা ২ হাজার ও ভিব্রিও ১ কোটি ৬০ হাজার। আখের রসে ই-কোলাই পাওয়া গেছে ৬৫ হাজার, সালমোনেলা ১৭ হাজার ও ভিব্রিও ১৩ হাজার। অ্যালোভেরা সরবতে ই-কোলাই পাওয়া গেছে ৫৬ হাজার, সালমোনেলা ১৮ লাখ ও ভিব্রিও ১৪ হাজার। মিক্স সালাদে ই-কোলাই পাওয়া গেছে ১ হাজার ৮০০, সালমোনেলা ৫১০ ও ভিব্রিও ৩০০।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, এসব স্ট্রিট ফুড খেয়ে প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার কারণে দুজন, সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার কারণে চারজন ও ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়ার কারণে মাত্র একজন অসুস্থ হচ্ছে।
সেমিনারে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি) ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ও সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) ড. মোহাম্মদ শোয়েব। এ সময় ফল নিয়ে আরেকটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম সোলায়মান।
জানতে চাইলে ড. মো. লতিফুল বারি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এসব খাবার খাওয়ার পর কোনো কোনো মানুষ অসুস্থ হবে। কোনো কোনো মানুষ অসুস্থ হবে না। এটা নির্ভর করবে তার ইমিউনিটির ওপর। কতটুকু ব্যাকটেরিয়া খেলে অসুস্থ হবে, এই ডাটা আমাদের দেশে নেই।’










