করোনা রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক-নার্স ও অন্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সে ঘোষণা অনুযায়ী তাদের নামের তালিকা তৈরির উদ্যোগও নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে গত ১২ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটি চিঠিও পাঠানো হয়। তবে এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন এরই মধ্যে ধীর হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি তালিকা পাঠানো হলেও তাতে করোনা চিকিৎসায় জড়িত নন, এমন ব্যক্তিরও নাম পাওয়া গিয়েছে। এ অবস্থায় আবারো তালিকা পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে নামের যে তালিকা এসেছে, তাতে করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন না, এমন স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের নামও পাওয়া গিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত ১৭ জুন আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাতে তিন কর্মদিবসের মধ্যে শুধু করোনা রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তরের চিঠির ভাষ্য হলো, করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে শুধু করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত এবং চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকা আলাদাভাবে পাঠাতে হবে। এজন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে কমিটির সুপারিশসহ আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে নার্সদের বিষয় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বেলাল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে যেসব চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা তিন ধরনের তালিকা তৈরি করছি—যেসব চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী কভিড-১৯ রোগীদের সেবা দিচ্ছেন, যারা সেবা দিতে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছেন এবং যারা সেবা দিতে গিয়ে মারা গিয়েছেন, দ্রুতই এ তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর কাজ চলছে।

এদিকে কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘোষিত বাজেটেও বিশেষ প্রণোদনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া মহামারী মোকাবেলায় ফ্রন্টলাইনারদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। এ বরাদ্দ থেকে আক্রান্ত ও মৃত ফ্রন্টলাইনারদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার সুযোগ রয়েছে। মহামারীসৃষ্ট যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

অর্থ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বৈশ্বিক মহামারী কভিড-১৯ কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। আগামীতে করোনার প্রভাব বেড়ে গেলে জরুরিভিত্তিতে হাসপাতাল নির্মাণসহ আইসিইউ, ভেন্টিলেশন, সাপোর্ট কেয়ার সরঞ্জাম, নমুনা পরীক্ষার কিটসহ নানা যন্ত্রপাতি কিনতে হতে পারে। এছাড়া করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়ে গেলে জরুরিভিত্তিতে তা আমদানির প্রয়োজন পড়বে। এছাড়াও নভেল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নানা ধরনের গবেষণার কাজ চলছে দেশে। সেসব খাতেও এ বরাদ্দ থেকে ব্যয় করার সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) হিসাব বলছে, এ মুহূর্তে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৪০ জন চিকিৎসক এ ভাইরাসে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। নার্স ও অন্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে সংক্রমিত রয়েছেন ২ হাজার ২৬১ জন। কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৪১ চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

বিএমএর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯০১ জন নার্স ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়া কভিড-১৯-এ আক্রান্ত অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৬০ জন।