তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হওয়া এসব সমস্যা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
গতকাল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে চিকিৎসা অবহেলায় মারা যাওয়া কণিকা রানী মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
কণিকা রানী মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
গত ২৯ জুন অসুস্থ হয়ে কণিকা রানী মণ্ডল ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর কণিকা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরদিন তার পেটে ব্যথা ও ফোলা ভাব দেখা দেয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও তারা সন্তোষজনক চিকিৎসা পাননি। পরে কণিকাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার পেটে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন বলে পরিবারের দাবি। পরে অস্ত্রোপচার করে ওই গজ বের করা হয়। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ১৯ আগস্ট রাতে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কণিকা মারা যান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
কণিকা রানীর মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। পরিবারটির পাশে সরকার থাকবে। মাতৃহারা শিশুটির ভরণপোষণের দায়িত্বও সরকার নেবে বলে জানান তিনি। এ সময় নিজের তহবিল থেকে শোকাহত পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, ‘সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।










