কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
আজ রোববার সকালে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলায় আসামিদের নাম অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার অগ্রগতি ও তদন্তের বিস্তারিত জানাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ের কথা রয়েছে।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলাটি করেন।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে কুবির শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতারসহ চার দফা দাবি জানান। পরে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিন সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। বেলা ১১টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।
নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্নস্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালান। নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।









