গতকাল ফেনী জেলার পরশুরামে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরিদর্শনকালে তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর বিবিধ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। এরপর তিনি হেলিকপ্টারযোগে ফেনী জেলার পরশুরাম ও সংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরিদর্শনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়াসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী: বন্যায় প্লাবিত হয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষাধিক বাসিন্দা। এরই মধ্যে চেঙ্গি, মাইনি ও কাসালং নদীর পানি বিপৎসীমার দুই থেকে ছয় ফিট অতিক্রম করায় আশপাশের এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বিপন্ন মানুষের সাহায্যার্থে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। দিনভর উদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার খাগড়াছড়িবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে সেনাবাহিনী। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয় অবস্থানরত অসহায় মানুষের রান্না করা খাবার দেয়ার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুকনা খাবার, মোমবাতি, দিয়াশলাই, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। 

বিমান বাহিনীর ত্রাণ বিতরণ: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্গতদের মাঝে অব্যাহতভাবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান গতকাল বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বন্যাকবলিত এলাকায় গমন করেন। 

সেনাবাহিনীর সব পদবির সেনাসদস্যদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ বন্যার্তদের সহযোগিতায় প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাসদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি একটি মহতী উদ্যোগে সরাসরি সম্পৃক্ত হলো। —আইএসপিআর