অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে সরকারের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছাড়া গণতন্ত্র কল্পনা করা যায় না। তাকে অন্যায়ভাবে ছয় বছর কারাগারে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে। তাকে মুক্ত না করলে সরকারের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।’

গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন বেগবান করার আহ্বানও জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ সমাবেশের মূল লক্ষ্য একটাই, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। তিনি এ দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কারাগারে ছিলেন। টানা নয় বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছেন। কোনোভাবেই তিনি পিছপা হননি। ছাত্রদের সঙ্গে তিনি স্বৈরাচারকে হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। খালেদা জিয়া আমাদের গণতন্ত্র ও আন্দোলনের প্রতীক। তাকে রক্ষা করতে হলে ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে বলব, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য লড়াইয়ে শামিল হই। তরুণ-যুবকদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ। ভয়ে মরা নয়, সাহস করে লড়াই করুন। পরিবর্তন করতে হলে তরুণ-যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। আওয়ামী লীগ দখলদার সরকার। তারা দেশকে ও দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে। দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতাকে ধ্বংস করছে। কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

রাঘববোয়ালদের ধরা হয় না অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে খেটে খাওয়া শ্রমিকরা চাল-ডাল, তেল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ চিকিৎসা পায় না। লুট করে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লুটের সঙ্গে জড়িত। আমরা চিন্তা করতে পারি না। তিনি দেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত। আজকে পুলিশের সাবেক প্রধান দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এনবিআরের কর্মকর্তা জড়িত।’