সিলেটসহ পূর্বাঞ্চল রেলের সব রুটে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হবে আজ বেলা ২টায়।

রেলওয়ে জানিয়েছে, এবারো শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হবে। এছাড়া এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের জন্য পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের সময় বাস, লঞ্চের পাশাপাশি মানুষের অন্যতম ভরসার বাহন হয়ে ওঠে ট্রেন। নিরাপদ ও আরামদায়ক হওয়ায় প্রতি বছর অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে নানা প্রস্তুতিও নেয় রেলওয়ে।

উৎসবের সময় পূর্বাঞ্চলে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৪টির বেশি আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আর রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগ নিয়ে পশ্চিমাঞ্চলে পরিচালনা করা হয় ৫৮টি আন্তঃনগর ট্রেন। শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে ইঞ্জিন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান রেলওয়ে মহাপরিচালক।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, আগামীকাল পাওয়া যাবে ১৪ মার্চের টিকিট, ১৫ মার্চের ট্রেনের টিকিট মিলবে ৫ মার্চ, ১৬ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে ৬ মার্চ, ১৭ মার্চের টিকিট ৭ মার্চ, ১৮ মার্চের টিকিট ৮ মার্চ এবং ৯ মার্চ বিক্রি করা হবে ১৯ মার্চের আগাম টিকিট।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদের জামায়াত উপলক্ষে ওইদিন ভৈরব বাজার-কিশোরগঞ্জ রুটসহ মোট পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।

ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে এবার পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ থেকে ৪৭টি এমজি কোচ যাত্রীবাহী সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অনলাইনের পাশাপাশি ঈদযাত্রার দিনে কাউন্টারে থাকছে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থাও।

এদিকে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্য রেলযাত্রা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নাশকতা ও টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ঈদযাত্রায় আগের মতো ট্রেনে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে আসনবিহীন টিকিটধারী কোনো যাত্রী যেন এসি কামরা কিংবা প্রথম শ্রেণীর আসনে ভ্রমণের সুযোগ না পায় তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর আব্দুল গণি রোডস্থ রেলভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্য ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সভায় ঈদযাত্রায় আগের মতো ট্রেনে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে আসনবিহীন টিকিটধারী কোনো যাত্রী যেন এসি কামরা কিংবা প্রথম শ্রেণীর আসনে ভ্রমণের সুযোগ না পায় তা নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি ও মো. রাজিব আহসান এমপি সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন। সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।