মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে গতকাল ছিল চলতি বইমেলার তৃতীয় ‘শিশুপ্রহর’। সকাল থেকেই বাবা-মায়ের হাত ধরে রঙিন পোশাকে মেলায় হাজির খুদে পাঠকরা। কেউ এসেছে স্কুলের সহপাঠীদের সঙ্গে, কেউ বা তার প্রিয় শিক্ষকের হাত ধরে। সারি সারি বইয়ের বুক শেলফ আর রঙিন মলাটের মাঝে দিনটি ছিল একান্তই ছোটদের। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ যেন পরিণত হয়েছিল এক টুকরো শৈশবে।

গতকালের শিশুপ্রহরের মূল আকর্ষণ ছিল ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’-এর বিশেষ পরিবেশনা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন মঞ্চে পাপেট ‘আলো’ তার বন্ধু ‘গগলু’কে খুঁজতে শুরু করে, তখন উপস্থিত শত শত শিশু সমস্বরে চিৎকার করে গগলুকে ডাকতে থাকে। গগলু মঞ্চে এসে হাজির হতেই খুদে পাঠকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। শুধু বিনোদন নয়, গল্পের ছলে গগলু শিশুদের দেয় এক দারুণ বার্তা—‘তোমরা বই পড়বে, গাছ লাগাবে, আর মোবাইলে গেমস খেলবে না।’

কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক বলেন, ‘আমরা চাই শিশুরা মোবাইল ছেড়ে মাঠে খেলুক, বই পড়ুক। শিক্ষার মাধ্যম হোক আনন্দদায়ক।’ গতকাল মঞ্চস্থ হয় ‘বল্টু মামা ও তার সাঙ্গপাঙ্গে’এবং ‘বন ভ্রমণ’-এর গল্প। পাপেট শোর পাশাপাশি শিশুদের ভিড় ছিল পুরনো দিনের ‘বায়োস্কো’-এর সামনেও। সেখানে ‘কুঁজো বুড়ির গল্প’ দেখে মুগ্ধ হতে দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশুদের।

শিশুপ্রহরে মেলায় আসা খুদেদের ঝোঁক ছিল মূলত ভূত, রূপকথা আর সায়েন্স ফিকশনের বইয়ের দিকে। মিরপুর থেকে আসা শিশু সায়রা জানায়, সে তার মায়ের সঙ্গে এসে বেশকিছু গল্পের বই কিনেছে।

উত্তরার আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে আসা ১৬ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুও গতকাল মেলায় এসে খুঁজে পেয়েছে আনন্দের খোরাক। শিক্ষিকা ইম্মত আরার হাত ধরে তারা পছন্দের ‘ঠাকুমার ঝুলি’ আর ছড়ার বই কিনে বাড়ি ফিরেছে একবুক তৃপ্তি নিয়ে।

বেলা ১টায় শিশুপ্রহর শেষ হওয়ার পর মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ছুটির দিন হওয়ায় বিকালের পর মেলাপ্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।