অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল এবং একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। গত ৪ থেকে ৬ নভেম্বর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব সামাজিক উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে এ আহ্বান বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। দলটির নেতৃত্ব দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ ।
বক্তব্যে তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তি এবং উদ্ভাবন, যেমন ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসা মডেলের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জনকেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেল তুলে ধরেন। এ সময় তিনি কার্যকর জননীতি, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসা মডেলের মতো সামাজিক উদ্ভাবনের সঙ্গে মিলিত হয়ে লাখ লাখ মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
ড. ইউসুফ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) চ্যালেঞ্জ হিসেবে সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখ নাগরিককে আশ্রয় দেয়ার মানবিক দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি নতুন আর্থিক শর্তাবলীর কারণে যেন স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়, ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও জলবায়ু অভিযোজনের জন্য সহজলভ্য, পূর্বাভাসযোগ্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদারদের আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয় এবং সামাজিক সুরক্ষা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও জলবায়ু সহনশীল সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।
প্রতিনিধি দলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।










