নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে নারী ও শিশুসহ নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল সকালে ক্যাম্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভাসানচর থানার এসআই নূর হোসেন। দগ্ধদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ শিশুর শরীরের ৫০ শতাংশের বেশি দগ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

দগ্ধরা হলেন সফি আলমের স্ত্রী মোবাশ্বেরা, মেয়ে রশ্মিতা (৩) ও ছেলে রবি আলম (৩), আজিজুল হকের ছেলে রাসেল (৩) ও  সোহেল (৫), আবদুস শুক্কুরের স্ত্রী আমিনা খাতুন (২৪) ও মেয়ে রুশা মনা বেগম (৪), আবু তৈয়বের ছেলে সফি আলম (২২) ও আবদুল হাকিমের ছেলে বশির উল্যা (২৫)।

ভাসানচর থানার এসআই মো. নূর হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গ্যাস আছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য সিলিন্ডারের মুখ খুলে দেন সফি আলম। এ সময় চারদিকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। একই সময় পাশের বাসায় সানজিদা নামে এক গৃহবধূ গ্যাসের চুলায় রান্না করছিলেন। সফি আলমের সিলিন্ডারের গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে আগুন ধরে যায়।

ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আরআরআরসি মাহফুজুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা পরিবারে প্রতি মাসে বিনামূল্যে সাড়ে ১২ কেজি গ্যাস সরবরাহ করা হয়। অনেক পরিবারে প্রতি মাসে যে পরিমাণ গ্যাস দেয়া হয় তার মধ্যে কিছু অব্যবহৃত থেকে যায়। রোহিঙ্গারা নতুন গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য সিলিন্ডারের মুখ খুলে গ্যাস বের করে বোতল খালি করে রাখে। এ বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের কাজ না করার জন্য একাধিকবার বলা হয়েছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হাসিনা জাহান বলেন, ‘দগ্ধ নয়জনের মধ্যে পাঁচ শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের ৫২-৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি দুই নারী ও দুই পুরুষকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তারা শঙ্কামুক্ত।’