ঢাকার বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে গতকাল তেমন একটা ভিড় ছিল না বললেই চলে। যদিও যাত্রী সংকটের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া দাবির অভিযোগ ছিল গতকালও। প্রচুর মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর সব সড়কও ছিল প্রায় ফাঁকা।
ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কগুলোয় যানজট, মানুষের ভিড় বা যানবাহনের শব্দের নিত্যদিনের চিত্রটি একপ্রকার অনুপস্থিত। রিকশা, মোটরসাইকেল আর ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া সড়কে তেমন কোনো যানবাহনের চাপ নেই। টার্মিনালগুলোয়ও দেখা যায়নি মানুষের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রী না থাকায় অনেক বাস কাউন্টারেই অলস সময় পার করতে দেখা যায় পরিবহন কর্মীদের।
যাত্রী সংকটের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ছিল গতকালও। ধামরাইয়ের কাওয়ালীপাড়ায় যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন আমিন। তিনি বলেন, ‘যাত্রী কম থাকায় বাস চলছে না। ঢাকা-নাগরপুর পরিবহনে স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া থাকে ৭০ টাকা। আজ যেখানেই যাই ২০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। ঈদে তো বাড়িতে যেতেই হবে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামেই টিকিট কিনলাম।’
সকালে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক জালালউদ্দিন বসে আছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে যাত্রী নেই। কয়েকটি গাড়ি প্রায় ফাঁকা গেছে। বৃহস্পতিবারও আমাদের শ্বাস ফেলার সময় ছিল না, আর আজ বসে বসে সময় কাটাচ্ছি।’
দুপুরে একই চিত্র দেখা গেছে কেন্দ্রীয় স্টেশন কমলাপুরে। সকাল থেকে প্রায় সব ট্রেনই আসন ফাঁকা রেখে ছেড়ে যায়, বিলম্বের অভিযোগও পাওয়া যায়নি। কমলাপুরের টিকিট কাউন্টারের সামনে তেমন জটলাও দেখা যায়নি। যাত্রী কম থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। প্রস্তুতি অনুযায়ী প্লাটফর্মে প্রবেশের আগেই চেক করা হচ্ছিল যাত্রীদের টিকিট।
ঢাকার বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘সকাল থেকে এ পর্যন্ত সবগুলো ট্রেনই যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। আশা করি, দিনভর কোনো ট্রেনেই শিডিউল বিপর্যয় ঘটবে না। দুর্ঘটনার কারণে গত দুই-একদিন যে দুই-তিনটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছিল, সেটা আমরা রিকভারি করেছি।’
চাপ কম থাকায় গতকালের ঈদযাত্রার টিকিট পেতেও খুব একটা সমস্যা হয়নি বলে জানালেন যাত্রীরা। রাজধানীর বেসরকারি চাকরিজীবী হাবিবুল্লাহ বাহার ছুটি পেয়েছেন বৃহস্পতিবারই। তিনি হাওর এক্সপ্রেসে মোহনগঞ্জ যাওয়ার জন্য টিকিট কেটে প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। শুক্রবার ঈদ হলে বাড়ি কখন যেতেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাড়ি তো যাওয়াই লাগবে। শুক্রবার ঈদ হইলে আগের রাতেই যেতাম। যেহেতু ঈদ শনিবার, ভাবলাম একটু ধীরস্থিরভাবেই যাই। রাতে টিকিটও পেয়ে গেলাম।’
মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বনলতা এক্সপ্রেসে রাজশাহী যাওয়ার জন্য টিকিট কেটেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকার স্থানীয়, পরিবারের সবাই মোহাম্মদপুরে থাকি। রাজশাহী নানা বাড়ি যাচ্ছি। শুক্রবার ঈদ হলে যাওয়া হতো না, টিকিট পেলাম বলে ভাবলাম ঘুরে আসি একটু।’
ঈদযাত্রার শেষ দিন গতকাল রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের কিছুটা ভিড় দেখা গেছে। তবে যাত্রীর চাপ ছিল ঈদযাত্রার অন্য সব দিনের চেয়ে কম। মূলত ব্যাপক ভিড় এড়াতে বাড়ি ফেরার জন্য দিনটিকে বেছে নিয়েছেন বলে জানালেন যাত্রীরা।
সরজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলগামী বিভিন্ন লঞ্চে যাত্রী উঠছেন। তবে ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা গেছে। যদিও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য বাড়ি ফিরতে তারা উন্মুখ।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সদরঘাটের লালকুঠি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোলাগামী আল শাফিন সাত্তার খান লঞ্চে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী রয়েছে। একইভাবে বেলা ১১টায় চাঁদপুরগামী ইমাম হাসান লঞ্চেও যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।










