দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সুরমা, কুশিয়ারা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ বিভিন্ন নদীর মোট ১১টি স্টেশন সতর্কসীমায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
আজ সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, বর্তমানে দেশের দুটি স্টেশনে একটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একই সময়ে পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৬৯টির পানি বেড়েছে, ৫০টির কমেছে এবং ৮টি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কয়েকটি নদীর বিভিন্ন স্টেশন বর্তমানে সতর্কসীমায় রয়েছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর কানাইঘাট (সিলেট) ও ছাতক (সুনামগঞ্জ), কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ ও শেওলা (সিলেট), পুরাতন সুরমা নদীর দিরাই (সুনামগঞ্জ), দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী (কুড়িগ্রাম), তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (রংপুর), তারাপুর ও হরিপুর (গাইবান্ধা) এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর হাতিয়া ও চিলমারী (কুড়িগ্রাম), ফুলছড়ি ও সাঘাটা (গাইবান্ধা), সারিয়াকান্দি (বগুড়া) এবং জগন্নাথগঞ্জ (জামালপুর) স্টেশন রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামের নারায়ণহাটে ১৭৯ মিলিমিটার। এছাড়া সুনামগঞ্জে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া লরেরগড় (সুনামগঞ্জ) ৮৫ মিলিমিটার, ভাগ্যকুল (মুন্সিগঞ্জ) ৮১, জাফলং (সিলেট) ৭৬, কক্সবাজার ৭৬, পটুয়াখালী ৫৭, পাঁচপুকুরিয়া (চট্টগ্রাম) ৫১ এবং টেকনাফ (কক্সবাজার) ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশের উজানে ভারতের মেঘালয়েও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেখানে আর কে এম সোহরায় ১০৭ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ১০৪ এবং মাউসিনরামে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া উজানে সর্বোচ্চ পরিলক্ষিত বৃষ্টিপাত হিসেবে মাওকিরওয়াত ও চেরাপুঞ্জিতে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য উল্লেখ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।










