শস্যভাণ্ডার খ্যাত দিনাজপুরের হিলিতে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপদ্রব না থাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠের বেশির ভাগ ধান পাকা শুরু হয়েছে, মাঠ থেকে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ধান উৎপাদন ভালো হওয়ায় ও দাম ভালো থাকায় লাভের আশা করছেন কৃষকরা।
হিলির ছাতনি গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, দিনদিন হিলিতে বোরো ধানের আবাদ বাড়ছে। বিশেষ করে ভালো দাম পাওয়ায় চিকন ধানের আবাদে বেশি ঝুঁকছেন কৃষকরা। এবারো কৃষকরা অধিকাংশ জমিতে চিকন ধান রোপণ করেছেন। তবে ধান রোপণের পর শুরুর দিকে চিকন ধান গাছের পাতা ও গোড়াপচা রোগ দেখা দেয়। তবে কৃষি অফিসের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক-সার ব্যবহার করায় সেটি দ্রুত কাটিয়ে ওঠে। এরই মধ্যে মাঠের বেশির ভাগ ধান পেকে গেছে । বর্তমানে ধানের যে অবস্থা, ঝড়-বৃষ্টি তেমন না থাকায় বাম্পার ফলন আশা করছি। ধানের দাম ভালো আছে তাতে করে খরচ ও শ্রমিক খরচ বাদ দিয়ে লাভবান হতে পারব। তবে আকাশে মেঘ দেখলেই ভেতরে চমকে উঠছে। বর্তমানে যে আবহাওয়া রয়েছে আর সপ্তাহখানেক যদি এমন অবস্থা থাকে, তাহলে মাঠ থেকে ভালোভাবে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারব।
হিলির জালালপুর গ্রামের কৃষক শাহিনুর আলম বলেন, এবারে ধান রোপণের পর থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে, এ কারণে এবার ধান উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২২ মণ করে ফলন হচ্ছে। ১ বিঘা জমিতে ধান আবাদে সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৯০০-১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এমন দাম যদি থাকে, তাহলে আমাদের সব খরচ বাদ দিয়ে লাভবান হতে পারব।
ধান কাটা শ্রমিক ইসরাফিল ও নাজিউর বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় বসে থাকার কারণে দিন খারাপ গেলেও চলতি বোরো মৌসুমের ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। গত বছর যেমন একবিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ করেছিলাম সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে। এবারো সেই রেটে কাজ করছি। তবে অন্যবারের তুলনায় এবারের মৌসুম বেশ ভালো। ঝড়-বৃষ্টি নেই, যার কারণে সুষুমভাবে ক্ষেত থেকে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ করা যাচ্ছে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় ৬ হাজার ৫৩৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সেখানে আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে মাঠ থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এছাড়াও জমির আশিভাগ ধান পাকলেই আমরা কৃষকদের ধান কেটে নেয়ার পরামর্শ প্রদান করছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবারে ভালো ফলন হয়েছে, এতে করে আমরা আশা করছি, যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সেটি অতিক্রম করতে পারব। বর্তমানে কৃষকরা ধানের দাম ভালো পাচ্ছেন, এতে করে কৃষকরা বেশ খুশি।










