সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যে বয়সের ছেলেমেয়েদের দেখেছিলাম, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে আবার সেই তরুণ ছেলেমেয়েদেরকে রাস্তায় খুব কাছে থেকে তোমাদের পাশে থেকে দেখলাম। তোমাদের ভেতরে যে স্পৃহা, এনার্জি, যে শক্তি আমি দেখেছি সেই সাহসিকতা নিয়ে আবার নতুন দেশটাকে গড়তে কাজে লাগাবে।
তিনি বলেন, আমি চাই সেই বাংলাদেশ গড়ে উঠুক যা নিয়ে সারা পৃথিবী বলবে, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে নারী ও শিশুরা নিরাপদে থাকবে। নতুন দেশে নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তরুণদের কাছে প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
উপদেষ্টা গতকাল বাংলাদেশ শিশু একাডেমির অডিটোরিয়ামে ইয়ুথ ফোরাম অব বাংলাদেশ এর উদ্যোগে 'তারুণ্যের চোখে আগামীর বাংলাদেশ' শিরোনামে আয়োজিত আন্ত:কলেজ বিতর্ক উৎসব ২০২৫ এর ফাইনাল পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান), নিরাপদ অ্যালায়েন্সের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফাতিন সাদাব লিয়ান, ইয়ুথ ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি ইউসুফ মাহমুদ তৌসিফ, সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন মির্জা ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপদেষ্টা বলেন, ন্যায্যতা, সাম্য, সুশাসন— একটি রাষ্ট্র গণতন্ত্রের স্বপ্নগুলো নিয়েই পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু আমরা গণতন্ত্রের শেকড় গড়তে পারলাম না। আমরা ১৬টি বছর পথ হারিয়ে ফেললাম। চলতে চলতে এমন ভ্রান্ত পথে চললাম, দেশে অন্যায়ের পাহাড় বেড়ে উঠল। অত্যাচারের পাহাড় গড়ে উঠল। স্বৈরতন্ত্রের আবির্ভাব দেখলাম, তার চরম বিকাশ দেখলাম। যার ফলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো ২৪ এর জুলাইয়ে জেগে উঠল নতুন করে আবার সেই প্রজন্ম, তরুণ প্রজন্ম। আমি আবার সেই তরুণ ছেলেমেয়েদেরকে দেখতে পেলাম।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার নতুন সুযোগ দ্বিতীয়বার যে আমরা পেতে পারি তা ছিল কল্পনার অতীত। তিনি বলেন, ভেঙে যেতে দেয়া হবে না সেই ঐক্য যেটা তোমরা সৃষ্টি করেছিলে রাজপথে ২০২৪ এর জুলাইয়ে। মতাদর্শের ভিন্নতায় ভেঙে যেতে দেয়া যাবে না দেশকে।
তিনি আরো বলেন, আমার ইসলাম বলে ঐক্যের কথা, সমতার কথা, ভালোবাসার কথা। ২৪ এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৭০ শতাংশ মেয়েরা ছিল রাস্তায়। তাদের এই আত্মত্যাগ, সংগ্রাম, কষ্ট ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও করেছে। এই ৭০ শতাংশের ভেতরে সব জায়গায় খুব কম সংখ্যক মেয়েদেরকে দেখতে পাই।
উপদেষ্টা বলেন, নতুন বাংলাদেশে তারুণ্যের চোখে কী প্রত্যাশা, কী স্বপ্ন, দৃষ্টপটে কী ধারণা তৈরি হচ্ছে, সারা বাংলাদেশে তোমাদের মতো তরুণদের সঙ্গে দেখা করা, কথা বলার জন্য আমার দুটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের উল্লেখযোগ্য জায়গা হচ্ছে শিশু ও কন্যারা। তিনি বলেন, তোমরা সন্তানতুল্য। তোমাদের কাছে প্রত্যাশা, আমাদের সমাজে নারী নির্যাতন আর শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে এগিয়ে আসবে। যেখানে নারী ও শিশু নির্যাতন হবে সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।










