ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী দুইদিনে দেশের ৩০টি জেলায় দুই শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন তিনজন। আহত তিন শতাধিক।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ-পরবর্তী এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক এইচআরএসএস।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে নির্বাচনের পর সহিংসতায় তিনজনের মৃত্যুর খবর দেয়া হলেও ‘প্রকৃত অর্থে’ একজন মারা গেছেন বলে উপদেষ্টা পরিষদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

গতকাল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রেস সচিব বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার বক্তৃতায় বলেন, সত্যিকার অর্থে ইলেকশন রিলেটেড ভায়োলেন্সে মারা গেছেন একজন। আর হাতিয়ার নারীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে একটা তদন্ত কমিটি করে দেয়া হচ্ছে, তারা এ বিষয়টা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখবেন, ইনভেস্টিগেট করবেন।’

১৩ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাটের কচুয়ায় ধানের শীষ ও ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় একজন নিহত হন। তার নাম ওসমান সরদার (২৯)। এছাড়া শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ‘ভোটের বিরোধের জেরে’ এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী দুইদিনে ৩০টি জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সহিংসতায় মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাটে দুই যুবক নিহত হন। আর ময়মনসিংহে নিহত হয় একটি শিশু। এছাড়া নোয়াখালীতে একটি ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

এসব সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা জড়িত বলে এইচআরএসএসের সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

এইচআরএসএস বলছে, নির্বাচন-পরবর্তী এসব সহিংসতায় ৩৫০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, ঘরবাড়িতে হামলা–অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে গত চার মাসের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, অক্টোবর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রিক সাত শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ১০ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৫০৩ জন। এ সময়ে ৩৪ জনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি, যানবাহন ও নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৫৪টি সহিংসতার ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ২৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দুই শতাধিক স্থাপনায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।