তরুণ প্রজন্মের ওপর নানা ঘাত-প্রতিঘাত আসছে। আত্মবিনাশী হয়ে নিজেকে ধ্বংস করা যাবে না। জাতিকে কলঙ্কিত করা যাবে। আত্মবিনাশী কাজ থেকে নিজেদের দূরে রেখে বিকশিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুন্দর, স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। যেন শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট না হয়। এসব বিষয়ে তরুণ শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে দুদিনব্যাপী রজতজয়ন্তী উৎসবের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, পঞ্চাশ বছর আগে আমরা পরাধীন ছিলাম। আমরা চাইলেও এমন জমায়েতের আয়োজন করতে পারতাম না। কোথাও কোন বাধা ছিল না। তবুও মনোজগতের বাধার কারণে সকল কাজকর্মে প্রভাব ছিল। লেখাপড়া, গবেষণা, শিল্প-সাহিত্য সকল ক্ষেত্রেও অদৃশ্য বাধা আমাদের মগজে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতো। এখন আর সেই পরিবেশ নেই। জঙ্গিবাদ ও জাতি বিধ্বংসী কাজ থেকে তরুণদের সাবধান থাকতে হবে। মননশীল কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করে দেশের উন্নতি সাধনে ব্রতী হতে হবে। আমরা কোন বিচ্ছিন্ন স্বত্ত্বা নই। এই ভূমি আমাদের স্থায়ী ঠিকানা। তাই অংশীদার মানবসম্পদ তৈরি করে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। বিশ্বমানের রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে সরকার রসদ জোগাবে। কিন্তু সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে।
‘স্বদেশের ঠাকুর ফেলিয়া আমরা বিদেশের কুকুর খুঁজি’ মন্তব্য করে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘এখন আমাদের দেশের মানুষের আয়ু বেড়েছে, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। কিন্তু আমরা বাইরে রোল মডেল খুঁজি। নেতৃত্বের রোল মডেলের প্রয়োজন আছে। কিন্তু রোল মডেল খুঁজতে হবে নিজেদের ভূমিতে। আমাদের মধ্যেই এমন রোল মডেল রয়েছে। দেশের মানুষকে স্বাধীন করার জন্য রোল মডেল হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিলেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর এখন আমাদের অর্থনৈতিক রোল মডেল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের রয়েছে গুণী শিক্ষক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে আপনারা প্রকৃত পরিকল্পনা নিয়ে আসুন। সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে রজতজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ, পিএইচপি পরিবারের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালাইমনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম।
উদ্বোধকের বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, অবোকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের জন্য কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাই, আমাদের একেকজন শিক্ষার্থীই একেকটি স্থাপনা হিসবে গড়ে উঠুক। আমাদের সবুজ, সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু স্থাপনায় নয়, শিক্ষার্থীদের মেধা-মননের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের লক্ষ হবে ক্লাস করা, জ্ঞান অর্জন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি পার্ক স্থাপিত হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান হবে। প্রধানমন্ত্রী মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া কোন প্রকল্প গ্রহণ করবেন না বলে দিয়েছেন। তাই গত কয়েক মাস বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ করছি। আমাদের সব স্বপ্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নতির শীর্ষ সোপানে নিয়ে যেতে। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম ও ফারজানা করিমের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী, বিভাগের অ্যালাইমনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম শিমুল, সাধারণ সম্পাদক হামিদ উল্লাহ। অনুষ্ঠানের বিভাগের প্রাক্তন তিন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তি দেয়া হয়। এছাড়া রজতজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত সংযোগ নামের সুভেনিয়রের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। পরে শোভাযাত্রা শেষে অনুষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দুপুরে মধ্যহ্নভোজের পর বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের ব্যান্ডদল বে অব বেঙ্গল গান পরিবেশন করেন। উৎসবের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার নগরীর অভিজাত রেস্তোরাঁ রেডিসন ব্লুতে নানা আয়োজন রাখা হয়েছে।










