মুজিব বর্ষ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ১ হাজার ২৭৪টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেবে সরকার। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ১২টি উপজেলায় এরই মধ্যে ৮০০টির মতো ঘরের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ৫৬৪টি গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর বিতরণ করা হবে।

এদিকে গত রোববার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী, মধুপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার ঘর নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শহিদ উল্লাহ, সহকারী কমিশনার মো. সালাহউদ্দিন আইয়ূবী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যাদের জমি ও ঘর নেই তাদের জমিসহ ঘর দেয়ার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় সরকারিভাবে ১ হাজার ১৭৪টি পরিবারের মাঝে ঘর দেয়া হবে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে আরো ১০০ ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রতিটি ঘরে দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্না ঘর, একটি ইউটিলিটি কক্ষ, একটা শৌচাগার ও একটি বারান্দা থাকবে।

ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা গাড়া বাড়ি এলাকার জহির উদ্দিন বলেন, গাবাসারা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাড়িসহ আমাদের ৪৫ শতাংশ জমি ছিল। প্রায় ২৫ বছর আগে যমুনার ভাঙনে সব জমি বিলীন হয়ে যায়। তারপর অন্যের জমিতে বাড়ি করে বসবাস শুরু করি। ২০১৮ সালে যমুনার ভাঙনে সে বাড়িও বিলীন হয়ে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে ঘর পেয়ে আমি খুব আনন্দিত।

কহিনুর বেগম বলেন, যমুনায় বাড়িঘর বিলীন হওয়ার পর গত চার বছর অন্যের বাড়িতে উঠেছিলাম। নিজে শ্রমিকের কাজ করে কোনো রকম সংসার চালাচ্ছি। সরকারি ঘর পেয়ে আমি খুব আনন্দিত।

মধুপুর উপজেলার শরবানু বেগম বলেন, ৩০ বছর আগে স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে যায়। বাবার সম্পত্তিও ভাইয়েরা গোপনে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। প্রায় দুই বছর আমি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলাম। নিজের কোনো বাড়িঘর না থাকায় আমি অন্যের বাড়িতেই থাকছি। সরকার আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিচ্ছে। এজন্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ আমি।

জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঘর নির্মাণের কাজ তদারকি করা হচ্ছে। মানবিক এ কর্মসূচি টাঙ্গাইল জেলায় সফল করা হবে। জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে যখন রঙিন টিনের ঘর উঠবে, তখন দৃশ্যটি দেখার মতো হবে।

তিনি আরো বলেন, এখনো কোনো অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি। কোথাও কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হলে সেগুলো অপসারণ করে মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঘর বিতরণের করার ক্ষেত্রে যাতে কোনো লেনদেন না হয় সেজন্য জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা, আইনশৃঙ্খলা সভাসহ বিভিন্ন সভায় একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। যাদের ভূমি ও ঘর নেই এবং যারা প্রকৃতভাবে ঘর পাওয়ার যোগ্য তাদের মাঝেই ঘর বিতরণ করা হবে।