বর্তমানে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মতো ভবিষ্যতে সংকট মোকাবেলায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গ্যাস উত্তোলনে পরিকল্পনা করবে সরকার। একইসঙ্গে জ্বালানি সংকটের ফলে কৌশলগত মজুদ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানির নিরাপত্তা দিতে পরিকল্পনা করছে।

আজ বুধবার পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগকে (জিইডি) প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে গঠিত অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা বলেছেন।

খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় কৌশলগত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় খাদ্যের পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও কৌশলগত মজুদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নিজস্ব গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি সম্পদের উত্তোলন বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় পাচঁ বছরের পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। এ পরিকল্পনায় জনগণের অংশগ্রহণ, কর্মসংস্থান ও বাস্তবতা নির্ভর হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, অতীতের মতো বাস্তবতা বিবর্জিত ও সংখ্যাভিত্তিক বয়াননির্ভর পরিকল্পনা নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়ন করা হবে। সেই সঙ্গে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কৌশল ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হবে।

মোট তিনটি বিষয়কে সামনে সরকার পরিকল্পনা করছে জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় তিনটি মৌলিক পরিবর্তন আনতে চায়। অতীতে প্রণীত পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তবতার বিস্তর অমিল ছিল, যা এখন মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে, যা বাস্তবায়নযোগ্য এবং জনগণের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে সবার প্রয়োজন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণই হবে সরকারের অগ্রাধিকার। অর্থনৈতিক কৌশল তখনই কার্যকর হয়, যখন তা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু অতীতে দেশের অনেক পরিকল্পনাই ছিল জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, বাস্তবতা বিবর্জিত এবং কেবল কিছু সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণে শিল্পখাতকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে শিল্প খাতে নতুন করে ভাবতে হবে। শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য অনুযায়ী শিল্প উৎপাদন নিম্নমুখী, যা উদ্বেগজনক।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দুই খাতে বৈষম্যের পাশাপাশি গুণগত মানের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে রিডিং দক্ষতা ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের অবনতি একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। সব মিলিয়ে একটি ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি এবং বৈরী আন্তর্জাতিক পরিবেশের মধ্যে দেশকে এগিয়ে নিতে হচ্ছে।

এদিকে পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন কাঠামো (২০২৬-২০৩০) নিতে যাচ্ছে বলে জানান জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই বছরের অর্থনৈতিক রিকভারি পরিকল্পনা ছিল। এখন নতুন সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাও ইশতাহার বাস্তবায়ন পাচঁ বছরের পরিকল্পনাটি নেয়া হচ্ছে।

এর আগে এদিন সকাল ১০টায় অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি অন্তবর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, কমিটির সদস্য সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মোস্তাফিজুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ্, সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।