মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাৎকালে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে পুলিশকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘দুষ্টের দমনে পুলিশকে কঠোর এবং শিষ্টের প্রতি ন্যায়সংগত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।’ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন তিনি।

অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচার, সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি এসব বিষয়ে জনগণকে নিয়মিত অবহিত করা ও ব্যাপক প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে আইজিপি পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখা এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে গতকাল দুপুরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং জানায়, যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের অর্থ, শ্রম ও মেধার অনস্বীকার্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘দেশ ও জাতি প্রবাসীদের এ অবদান ও ভূমিকা চিরদিন মনে রাখবে।’

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরে হয়রানি, ভোটাধিকারসহ ব্যবসায়িক ও নাগরিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এসব সমস্যা সমাধান এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সরকার এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রবাসী কার্ড চালু করা হয়েছে।’

তিনি প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় প্রতিনিধি দলটি দেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে।

রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।