তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদনের জন্য সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, বর্তমান  সরকার জনগণের সরকার, জনকল্যাণে কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় তিস্তা-পাড়ের জনগণ যেন সর্বোচ্চ সুফল পায় সেজন্য চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে।

‎আজ শুক্রবার লালমনিরহাটে তিস্তা নদী পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

‎এ্যানি বলেন, দেশের স্বার্থ আগে। দেশ এবং জনগণ যেন সর্বাধিক উপকৃত হয় সেজন্য সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সরকার প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চায়। তিনি আরো বলেন, তিস্তা অববাহিকার জনগণ যাতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পায় সেজন্য সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করছে।

‎মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শুধু কথায় নয় কাজে বিশ্বাস করে। ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খননকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে।

‎এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলে সরকার প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেবে। তিনি আরো বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েছি। প্রয়োজনে তিস্তা প্রকল্পও নিজস্ব অর্থায়নে করার আশ্বাস দেন তিনি।

‎এদিন মন্ত্রী ও সফরসঙ্গীরা নীলফামারী ও জেলার চাঁদের হাট, কচুকাটা, টেংগন নদী, জলঢাকা ও  দেওনাই এবং লালমনিরহাট জেলা চাড়ালকাটা নদী, রাজারহাট, ধানজাই, ও তিস্তা প্রধান সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এ সময় পানিসম্পদ সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।