দুর্ঘটনা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সাম্প্রতিক গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্প উদ্যোক্তারা গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছেন। একই সঙ্গে বকেয়া বিলের কারণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ শনিবার বিকেএমইএর নারায়ণগঞ্জ জোনের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
সভায় সদস্যরা জানান, প্রায় এক মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় নিয়মিত বকেয়ার পাশাপাশি জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। একই সময়ে বকেয়া বিলের কারণে কোনো গ্রাহকের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করারও দাবি জানান তারা।
গ্যাস সংকট মোকাবেলায় অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এসব সংযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সদস্যদের মতে, এতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি সিস্টেম লসও কমবে।
সভায় পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রেখে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানানোর দাবি জানান উদ্যোক্তারা। এতে গ্রাহকরা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিতে পারবেন এবং অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি কমবে বলে মনে করেন তারা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারানো প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা বিবেচনায় খেলাপি ঋণ ঘোষণার সময়সীমা ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করারও আবেদন জানানো হয়। সভায় বলা হয়, আমেরিকার আগ্রাসী যুদ্ধের কারণে রফতানি বাণিজ্য আগে থেকেই সংকটে রয়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি সংকট যুক্ত হওয়ায় অনেক কারখানার পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়েছে।










