বগুড়ায় সরকারি শাহ সুলতান কলেজে ২৫ শিক্ষার্থী ভর্তি প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় র‍্যাব-১২ ক্যাম্পের সদস্য ও পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে কলেজের তিন কর্মচারীকে আটক করেছে।

বগুড়ায় সরকারি শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ আগস্ট তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল জলিলকে। অন্য দুই সদস্য হলেন উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম ও দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল করিম। তাদের তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক রেজাউন নবী জানান, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল কলেজে এসেছে। তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে। সব বিষয়ে তথ্য নিয়েছে। এ দলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব হুমায়ুন কবির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

র‍্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সহকারী কমান্ডার নজরুল ইসলাম জানান, বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজে শিক্ষার্থীদের প্রতরণার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে কলেজের অফিস সহকারী মো. হারুন ও আমিনুলকে আটক করা হয়েছে। তাদের সহযোগী হান্নানকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এই ঘটনায় তিনজন আটক হলো।

উল্লেখ্য, বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজের কর্মচারী হারুনুর রশিদ এবং আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বে একটি চক্র কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে অফলাইনে ভর্তি করানো যায় বলে কমপক্ষে ২৫ শিক্ষার্থীকে ৬-১০ হাজার করে টাকা নিয়ে ভুয়া ভর্তির রসিদ দেয়। ভর্তি করানোর পর ওই ২৫ শিক্ষার্থীর নামে খাতায় ভর্তি দেখানো হয় ও রোল নম্বরও দেয়া হয়। দুই বছর ধরে ওই শিক্ষার্থীরা কলেজে নিয়মিত ক্লাস করেছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। কলেজের পোশাকও ব্যবহার করেছে। পরে চূড়ান্ত পরীক্ষার দিনে এসে জানতে পারে তাদের ভর্তি করানো হয়নি এবং ভর্তির নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।