উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিস্তাসহ কোনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে আবার নেমে গেলেও কিছু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে গজলডোবা ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। এ কারণে তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশে গতকাল সকালে বন্যা সৃষ্টি হলেও সন্ধ্যা ৬টায় পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা-উদ-দৌলা।

গত শনিবার রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, আগামী  ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত দেশের উজানে অতি ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী, চর বাগডহরা, মিনাবাজার, আলমবিদিতর ইউনিয়নের ব্যাঙপাড়া কোলকোন্দ ইউনিয়নের চর বিনবিনা, মটুকপুর, লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের শংকরদহ, ইচলি, জয়রামওঝা, চল্লিশসাল  ও গজগন্টা এবং মর্ণেয়া ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানে অতি ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া কাউনিয়া উপজেলার তিস্তাবেষ্টিত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে বেশকিছু পরিবার।

এদিকে তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও এবার বন্যার সৃষ্টি হয়েছে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ এলাকায়। স্মরণকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫১ দশমিক ৯৪ সেন্টিমিটার পানিপ্রবাহ পরিমাপ করেছে। যা একই দিন ডালিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় ৫২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক মো. নুরুল ইসলাম।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ফকিরপাড়া, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারী ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর খুনিয়াগাছ, রাজপুর এবং গোকুণ্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

এদিকে উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালীগঞ্জ, ঝাড়সিংহেশ্বর, খগার চর, জুয়ার চর, বাংলাপাড়া, উত্তর খড়িবাড়ী, বাইশপুকুর ও জলঢাকা উপজেলার ফরেস্টের চর, ভাবনচুর, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তাতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা গতকাল সকালে ছিল ৬ সেন্টিমিটার ওপরে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৯ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ৫২ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে প্লাবিত হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলগুলো।

অন্যদিকে গাইবান্ধা জেলায় কাউনিয়া স্টেশনে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও করতোয়া, ঘাঘটসহ অন্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।